কটিয়াদীতে নিহত প্রবাসীর স্বজনদের পাশে মন্ত্রী ও জেলা পরিষদ প্রশাসক

কটিয়াদীতে নিহত প্রবাসীর স্বজনদের পাশে মন্ত্রী ও জেলা পরিষদ প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ: শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "আমরা দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ত্যাগ স্বীকার করেছি। আগামী দিনেও সব ধরনের অপকর্ম থেকে দূরে থেকে মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করে যেতে হবে।"

মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী বাচ্চু মিয়ার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামার গ্রামে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর সময় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাস অতিবাহিত হলেও রমজান মাস এবং আন্তর্জাতিক নানা সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে থাকেনি। নির্বাচনি ইশতিহারের অনেক প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, মানুষ যেন বুঝতে পারে এই দল ক্ষমতায় এলে সর্বদা জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকে। আমরা কোনো জোর-জবরদখল করি না এবং কাউকে তা করতেও দেওয়া হবে না।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন।

এসময় কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, "দেশনায়ক তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনগণের কাছে দেওয়া তাঁর প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ আজ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে বলেই পবিত্র ঈদের ছুটির মধ্যেও সরকারের মন্ত্রী মহোদয় সুদূর ঢাকা থেকে দুর্গম গ্রামে ছুটে এসেছেন নিহত প্রবাসীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। এটিই প্রমাণ করে যে, এই সরকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগীদার।"

তিনি আরও যোগ করেন, "তারেক রহমানের নির্দেশেই আজ প্রশাসনের প্রতিটি স্তর সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। কোনো অপশক্তি বা বিশৃঙ্খলাকারীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।"

এ সময় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি ক্লিনিং কোম্পানির শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কটিয়াদীর বাচ্চু মিয়াসহ আরও দুই বাংলাদেশি নিহত হন। ধারণা করা হচ্ছে, নিকটবর্তী একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় প্রবাসী শ্রমিকদের ক্যাম্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিহত অপর দুই বাংলাদেশির একজন টাঙ্গাইলের এবং অন্যজন ময়মনসিংহের বাসিন্দা ছিলেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন