ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ দুলাল সরকার, গজারিয়া প্রতিনিধি: প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়কে নিজের কব্জায় রাখা স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানকে ঘুষ ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে শোকজ করা হয়েছে। তাকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র ও স্থানীয় ক্লিনিক মালিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালে স্টেনোটাইপিস্ট পদে যোগদানের পর থেকে মিজানুর রহমান কার্যালয়ের ‘অঘোষিত কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে আনীত প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
লাইসেন্স বাণিজ্য: জেলার প্রায় সব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নে সরাসরি প্রভাব বিস্তার। নবায়নের জন্য ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ।
বদলিতে বাধা: দীর্ঘ ৩৫ বছরে একাধিকবার বদলির আদেশ এলেও হাইকোর্টের রিট ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি একই কর্মস্থলে বহাল ছিলেন।
ভিডিও ফাঁস: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে টাকার লেনদেন নিয়ে দরাদাম করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি তো ৭০ আনতে বলছি, ৫০ হবে না।”
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান মিজানুর রহমান। ফেরার পথে স্বর্ণ ও রিয়ালসহ আটক হয়ে প্রায় দুই মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। ফলে অফিসে নির্ধারিত সময়ে যোগদান করতেও ব্যর্থ হন।
ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে মিজানুর রহমানের দাবি, “ভিডিওটি দেখেছি। এটি ঘুষ নয়, আমার বাসা ও দোকান ভাড়া সংক্রান্ত টাকা।”
তবে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক জানান, দীর্ঘ চেষ্টা করেও বৈধভাবে লাইসেন্স নবায়ন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মিজানের সঙ্গে ৮০ হাজার টাকায় সমঝোতা করতে বাধ্য হন তিনি। এখন দেখার বিষয়, এই শোকজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছরের ‘মিজান সিন্ডিকেট’ ভাঙা সম্ভব হয় কি না।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ