গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস তিন কর্মকর্তার সিন্ডিকেটে জিম্মি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস তিন কর্মকর্তার সিন্ডিকেটে জিম্মি

পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস (গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি): গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা জিম্মি হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত গ্রাহকরা সেখানে হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন এবং ঘুষ ছাড়া মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। এ নিয়ে একাধিক ভুক্তভোগী গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, খোদ সহকারী পরিচালক (এডি) নাহিদ নেওয়াজের গোপন নির্দেশেই চলছে এই চক্রটি। এই সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেন উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল। তিনি অফিসের ২০৬ নম্বর রুমে বসে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সামলান এবং নিচতলার ১০১ নম্বর রুমে তার সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী হিসাব রক্ষক বাপ্পু মিত্র।

এডি নাহিদ নেওয়াজ, উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল ও সহকারী হিসাব রক্ষক বাপ্পু মিত্র—এই তিনজনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল এক চক্র। তাদের অধীনে নিয়োজিত রয়েছে অফিসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ও পুলিশ সদস্য এবং ভেতরে-বাইরে প্রায় ৫০ জনেরও বেশি দালাল।

জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া ভুক্তভোগী করুনা রানী বিশ্বাস জানান, তার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়ে সিমলা রানী বিশ্বাসের পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গিয়ে তিনি চরম হয়রানি ও হুমকির শিকার হন। সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন জমা দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ঘুষ দিয়েই ফাইল জমা দিতে বাধ্য হন তিনি।

নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে আবেদনের পর মূল কপি ১০১ নম্বর রুমে জমা দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ইচ্ছে করেই নানা ত্রুটি ধরে আবেদন বাতিল করা হয়। গ্রাহকরা হতাশ হয়ে পড়লে দালাল ও আনসার সদস্যরা পাসপোর্ট দ্রুত করে দেওয়ার নামে ১,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করে। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ সরকারি ফি-র চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাজ উদ্ধার করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দালাল জানান, চুক্তিকৃত টাকার সিংহভাগই অফিসের কর্মকর্তাদের দিতে হয় এবং তারা কেবল সামান্য অংশ পান।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ। তিনি দাবি করেন, অনিয়মের বড় কোনো ঘটনা তার অফিসে ঘটছে না। তবে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।

এআইএল/সকালবেলা