ছাত্রদল নেতার পৈত্রিক জমি দখলের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ নেতার পাশে জামায়াত

ছাত্রদল নেতার পৈত্রিক জমি দখলের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ নেতার পাশে জামায়াত

মো: কোরবান আলী, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোঃ হাফিজ আল-মাহমুদের পৈত্রিক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। প্রায় দুই যুগ ধরে জমি উদ্ধারে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই ছাত্রনেতা।

হাফিজ আল-মাহমুদের অভিযোগ অনুযায়ী, উল্লাপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ সাইদুর এবং তাঁর ছেলে মোমিন হোসেন জোরপূর্বক হাফিজের বাবার ক্রয়কৃত জমি দখল করে সেখানে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেছেন।

হাফিজ আল-মাহমুদ জানান:

"আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বহুবার চেষ্টা করেও পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারিনি। উল্টো আমাদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পর আশার আলো দেখেছিলাম, কিন্তু এখনো ন্যায়বিচার পাচ্ছি না।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পৌরসভার উদ্যোগে জমি জরিপ করে তাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও প্রতিপক্ষ সময়ক্ষেপণ করে তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ অনুযায়ী আবেদন করলেও দীর্ঘ ৮-৯ মাস তাকে ঘোরানো হয়েছে।

হাফিজের দাবি, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে তাঁর প্রতিপক্ষের পক্ষে রায় দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন:

  • ভোল বদল: প্রতিপক্ষ আগে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও এখন জামায়াতের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।

  • গোপন জরিপ: ভূমি অফিস থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়েই গোপনে জমি জরিপ করে রায় প্রভাবিত করা হয়েছে।

  • অবিচার: ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেও নতুন বাংলাদেশে কেন তাকে অবিচারের শিকার হতে হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এই ছাত্রনেতা বর্তমানে দলের হাইকমান্ড এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি দ্রুত পৈত্রিক জমি উদ্ধার এবং ভূমি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইদুর বা তাঁর ছেলের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনও এই সংবেদনশীল বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। উল্লাপাড়ায় জমি দখল সংক্রান্ত এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন