কটিয়াদীতে ২ মাস ধরে তিতাসের গ্যাস লিকেজ, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ
মিজানুর রহমান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিতাস গ্যাসের প্রধান সরবরাহ পাইপলাইনের লিকেজ থেকে প্রায় দুই মাস ধরে অনবরত গ্যাস নির্গত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হলেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এর ফলে যেমন মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনই প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব।
জানা যায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জ সদরে গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইনটি কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামের আড়িয়াল খাঁ নদীর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। নদীর পাড়ে ঝোপঝাড়ের আড়ালে প্রায় এক বছর আগে একটি অবৈধ চুন তৈরির কারখানা গড়ে তোলে একটি অসাধু চক্র। সম্প্রতি ওই কারখানায় বেআইনিভাবে গ্যাস সংযোগ নিতে গিয়ে পাইপলাইনে ছিদ্র করে ফেলে চক্রটি। পরবর্তীতে উচ্চচাপের গ্যাস সামলাতে না পেরে তারা কাজ ফেলে রেখে সটকে পড়ে। সেই ছিদ্র দিয়েই টানা দুই মাস ধরে তীব্র বেগে গ্যাস বের হচ্ছে।
শুরুতে স্থানটি শুকনো থাকায় বিষয়টি আড়ালেই ছিল। কিন্তু সম্প্রতি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পাইপলাইনটি তলিয়ে গেলে পানির ওপর তীব্র বুদ্বুদ ও গ্যাসে পানির রঙ বদলে যেতে দেখে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। বর্তমানে কৌতুহলী শত শত মানুষ প্রতিদিন ঘটনাস্থলে ভিড় জমাচ্ছেন।
গ্যাস পাইপ মেরামতের দায়িত্বে থাকা ফোরম্যান মো. রুহুল আমীন ও মো. মোমেন মিয়া বলেন, “মূলত চুরি করে গ্যাস সংযোগ নিতে গিয়েই পাইপলাইনটিতে ছিদ্র করা হয়েছে। প্রায় ২০ দিন আগে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। তবে অতিবৃষ্টির কারণে নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম না থাকায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।”
ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় যুবক মো. রবিন মিয়া ও বাসিন্দা মাহফুজ মিয়া জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন চরম গ্যাস সংকট চলছে, সেখানে এমন রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন ছাড়া এত বড় জালিয়াতি সম্ভব নয়। তাঁরা এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। তবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও চুন কারখানার সংশ্লিষ্টদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে তিতাস গ্যাসের নরসিংদী সেলস অফিসের ম্যানেজার ফজলুল হক বলেন, “একটি চক্র বেশ কিছু জায়গায় চুন কারখানা বানিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে নরসিংদীতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কয়েকটি কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কটিয়াদীর এই নির্দিষ্ট বিষয়টি জরুরি বিভাগের জানা আছে কি না তা খোঁজ নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
এআইএল/সকালবেলা
|