ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা : বাংলা সাহিত্য ও গ্রামবাংলার জীবনচিত্রের অমর রূপকার পল্লীকবি জসীমউদ্দীন-এর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জন্মভূমি ফরিদপুরে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) সকালে ফরিদপুর শহরের অম্বিকাপুরে অবস্থিত পল্লীকবির সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে:
ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ।
ফরিদপুর ফাউন্ডেশন ও জসিম ফাউন্ডেশন।
ফরিদপুর প্রেসক্লাব ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি।
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ এবং আনসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা পল্লীকবির সাহিত্যকর্ম ও গ্রামীণ সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।
জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা তাঁর বক্তব্যে বলেন:
“পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের সাহিত্য বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর লেখায় গ্রামবাংলার মাটি, মানুষ, প্রেম-বিরহ ও মানবিক মূল্যবোধ অনন্যভাবে উঠে এসেছে। নতুন প্রজন্মের উচিত তাঁর সাহিত্য থেকে শেকড়ের শিক্ষা গ্রহণ করা।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মফিজ ইমাম মিলন, শিক্ষাবিদ এম এ সামাদ এবং ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইউম জঙ্গি। বক্তারা উল্লেখ করেন, জসীমউদ্দীনের সাহিত্য শুধু কাব্য নয়, বরং এটি বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে ‘মৃত্যুঞ্জয় কবি’ শিরোনামে একটি বিশেষ গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি দ্রুতই প্রকাশিত হবে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে কবির দর্শন পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।
সভার শেষে কবির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন আনসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গ্রামবাংলার সহজ-সরল মানুষের আবেগ ও মাটির ঘ্রাণকে কবিতায় অমর করে রাখা এই মহান কবি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ফরিদপুরের অম্বিকাপুরে পৈতৃক বাড়ির ডালিম গাছের নিচে তাঁকে দাফন করা হয়।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ