ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কে ড্রেন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন
এম. জহিরুল হক মিলন,ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের জনগুরুত্বপূর্ণ তেমুহনী বাজারে দীর্ঘদিনের জমাটবদ্ধ পানি নিষ্কাশন ও একটি টেকসই ড্রেন নির্মাণের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
আজ রোববার (১৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পাঁচগাছিয়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিলের সভাপতিত্বে এবং ফেনী জেলা যুবদলের সদস্য ও ব্যবসায়ী মওদুদ আহমেদ রনির দক্ষ সঞ্চালনায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে বাজারের সর্বস্তরের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলু, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক অজেয় বাংলার নির্বাহী সম্পাদক শাহজালাল ভূঁইয়া, তামিরুল উম্মাহ মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা আবদুল হান্নান, ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর নুরুল আমীন মিয়াসাব, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন বেলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য গিয়াস উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শামসুদ্দিন লাবলু এবং জামাল একাডেমির প্রধান শিক্ষিকা তহুরা শামিম।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কটি যখন চার লেনে উন্নীতকরণ ও নির্মাণ করা হচ্ছিল, তখন রাস্তার পাশের পূর্বের প্রাকৃতিক ড্রেনগুলো মাটি ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে যায়। এরপর থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমুহনী বাজারে আর কোনো নতুন বা আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। এর ফলে এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো বাজারে হাঁটু সমান পানি জমে রাস্তাঘাট চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ভোগান্তি তুলে ধরে বক্তারা আরও জানান, বাজারের আশপাশে বেশ কয়েকটি স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন শত শত কোমলমতি শিশুদের এই নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা চরম চর্মরোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
পাশাপাশি, বাজারে দিনভর নোংরা পানি জমে থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা সমাগম এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এর ফলে বাজারের শত শত ব্যবসায়ী প্রতিদিন চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এই দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের বিষয়ে বারবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সুরাহা মেলেনি।
যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ী মওদুদ আহমেদ রনি বলেন, "তেমুহনী এলাকাটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে ২৪ ঘণ্টাই দূরপাল্লার যাত্রী ও স্থানীয় মানুষের সমাগম থাকে। মহাসড়ক নির্মাণের সময় পরিকল্পিত ড্রেন না করায় এখন বৃষ্টি হলেই জমাটবদ্ধ পানির পচা দুর্গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা অবিলম্বে এর স্থায়ী ও আধুনিক প্রতিকার চাই।"
স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা জলজটের অভিশাপ সহ্য করছেন। কিন্তু প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেওয়ায় আমরা আজ ব্যবসায়ী সমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।"
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের জনতা প্রশাসনের উদ্দেশে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে তেমুহনী বাজারে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নতুন ড্রেন নির্মাণ করা না হলে, পরবর্তীতে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে সড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
|