প্রবাসীর স্ত্রীর ফ্ল্যাটে রাতযাপন: ডিএমপির এএসআইসহ নারী কারাগারে
চট্টগ্রামে এক সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া এবং ফ্ল্যাট থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) ও সংশ্লিষ্ট নারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রবাসীর ছোট ভাইয়ের দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আকবরশাহ থানা সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি আই-ব্লকের ৮০ নম্বর প্লটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ওই প্রবাসীর নিজস্ব ফ্ল্যাটে এএসআই নুরুন্নবী মুন্না ও প্রবাসীর স্ত্রীকে একসঙ্গে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আকবরশাহ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না বর্তমানে ডিএমপিতে কর্মরত রয়েছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত নারী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর এলাকার সৌদি প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জীবিকার তাগিদে ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে পাড়ি জমান। প্রবাসে অবস্থানের কারণে দেশে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছিলেন তাঁর ছোট ভাই। অভিযুক্ত এএসআই নুরুন্নবী মুন্না পূর্বে আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকাকালে ২০২১ সালের ২০ জুন পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে প্রবাসীর বাসায় নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নুরুন্নবী মুন্না ওই নারীর আকবরশাহ বিশ্ব কলোনির ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন এবং টানা কয়েক দিন সেখানে অবস্থান করে রাতযাপন ও শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। বিষয়টি টের পেয়ে বুধবার রাতে স্থানীয় লোকজন ফ্ল্যাটটি ঘেরাও করে তাঁদের অবরুদ্ধ করে ফেলেন।
বাদী এজাহারে আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে প্রবাসীর বিদেশ থেকে পাঠানো অর্জিত সঞ্চয়ের নগদ ১৫ লাখ টাকা এবং আনুমানিক ২৬ লাখ টাকা মূল্যের ১৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার কৌশলে ওই বাসা থেকে সরিয়ে ফেলেছেন।
এ ঘটনায় প্রবাসীর ভাই বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪৯৪ (স্বামী/স্ত্রী বর্তমান থাকতে বিবাহ), ৪৯৭ (ব্যভিচার), ৩২৩ (স্বেচ্ছায় আঘাত), ৩৮০ (বাসস্থানে চুরি), ৫০৬ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) ও ৩৪ ধারায় আকবরশাহ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, “প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা এএসআই মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ও ওই নারীকে ফ্ল্যাটে অবরুদ্ধ করে থানায় খবর দেন। পুলিশ গিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রবাসীর পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যভিচার, মারধর, মূল্যবান মালামাল চুরি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা দায়েরের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।”