ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগিরই সিদ্ধান্ত: চিফ হুইপ
বিগত শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বর্তমান সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে এবং খুব দ্রুতই এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময়ে হওয়া বহু চুক্তি ছিল একপেশে ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তিনি বলেন, “বিভিন্ন অনৈতিক ও অসম চুক্তি থেকে বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসছে। বিএনপি সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন ও পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।”
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বৈষম্যমূলক শর্তের উদাহরণ টেনে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশের জাহাজ ও বন্ধু দেশের দুটি জাহাজ যদি একসঙ্গে ভিড়ে, তবে বন্ধু দেশের জাহাজ আগে পণ্য খালাস করার অগ্রাধিকার পাবে—দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এমন অসংখ্য জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে গেছেন শেখ হাসিনা। আমরা সেই অসম জায়গাগুলো থেকে স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আমাদের নীতি পরিষ্কার—দেশের সার্বভৌম স্বার্থ শতভাগ নিশ্চিত করার পরই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে।”
তিনি আরও প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা এই দেশকে আত্মমর্যাদার সাথে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী করতে যা যা প্রয়োজনীয় সংস্কার করা দরকার, সরকার তার সবই করবে।”
সংবাদ সম্মেলনে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রতিবেশী দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ভারত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত।
সরকারের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে চিফ হুইপ জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল দেনার মধ্য থেকে ইতিমধ্যে ২০৫ কোটি মার্কিন ডলারের বিদেশি ঋণ সফলভাবে পরিশোধ করেছে বর্তমান প্রশাসন। এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশে বর্তমানে রেকর্ড ১৬ লাখ মেট্রিক টন সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।