১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে ১১ দলের দ্বিতীয় লংমার্চ: ডা. শফিকুর রহমান
ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি শেষে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই নতুন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
এর আগে ঢাকা থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের প্রথম লংমার্চ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার উত্তরাঞ্চলের দিকে এই অভিযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা সমালোচনার জবাব দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের লংমার্চ নিয়ে অনেকেই তীর্যক সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এই লংমার্চ কোনো একক দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়নি। সমাজে বিরাজমান বৈষম্য দূরীকরণ, সাধারণ মানুষের বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করা, রুগ্ণ শিল্প খাত পুনরুজ্জীবিত করা, তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মতো একগুচ্ছ জাতীয় মৌলিক দাবি নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছি। বিশেষ করে খুনিদের বিচার কোনো দলীয় বিষয় নয়; এটি প্রতিটি নাগরিক ও শহীদ পরিবারের প্রাণের দাবি।”
প্রথম লংমার্চে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “বলা হচ্ছে আমরা গাড়ির বহর নিয়ে গিয়েছি। হ্যাঁ, আমরা গাড়িবহর নিয়েই গিয়েছিলাম। আমাদের সক্ষমতা ছিল আরও বিরাট বহর নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু সার্বিক দিক ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে আমরা একটি নিয়মতান্ত্রিক ও প্রতীকী বহর নিয়ে অগ্রসর হয়েছি; সর্বশক্তি উজাড় করে বহরকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিশাল করিনি।”
প্রথম কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা জনগণের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম পৌঁছানো পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে সাধারণ মানুষের যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও সমর্থন আমরা দেখেছি, তা আমাদের সত্যিই অভিভূত করেছে। তারা কেউই কেবল দলীয় কর্মী ছিলেন না, তারা ছিলেন নির্যাতিত ও ক্ষুব্ধ সাধারণ জনগণ।”
রুট ও সময়সূচি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমাদের কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঞ্চলে পৌঁছাবে। একটি রুটে সফলভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের ১৯ তারিখে রংপুরের উদ্দেশে আমাদের দ্বিতীয় লংমার্চ শুরু হবে।”
কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের পুরো লংমার্চটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ। বড় ধরনের কোনো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়নি। এরপরেও রাস্তায় যদি সাধারণ পথচারীদের সামান্য কষ্ট হয়ে থাকে, তবে আমরা তাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং দুঃখ প্রকাশ করছি।”
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আন্দোলন নয় দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা কোনো দল বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বার্থে কিংবা কাউকে গদি থেকে উৎখাত করা বা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য এ আন্দোলন করছি না। আমাদের প্রতিটি দাবি ছিল সাধারণ জনগণের সরাসরি অভিপ্রায়। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, দিনশেষে এই গণদাবিই বাস্তবায়িত হবে।”
মতবিনিময়ের সময় গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশা করে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। বিরোধী দল হিসেবে আপনারা আমাদের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করবেন, ভুলত্রুটি হলে নিরপেক্ষ সমালোচনা করবেন এবং জনগণের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে পরামর্শ দেবেন।”
সরকারের সাথে আলোচনা ও সমঝোতার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা তো এতদিন সরকারের সঙ্গে নানামুখী আলোচনাই করে এসেছি। সরকার যদি জনগণের এসব যৌক্তিক ও মৌলিক দাবি মেনে নেয়, তবে তো আমাদের রাজপথে লংমার্চ করার কোনো প্রয়োজনই পড়ে না। লংমার্চে কষ্ট স্বীকার করতে হয় সাধারণ জনগণের, আমাদেরও করতে হয়। তাই সরকারকে বলব—অহেতুক সংঘাতের পথে না গিয়ে জনগণের দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নিন।”