সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধ: দুলাভাই বাহিনীর প্রধান আটক

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে  বন্দুকযুদ্ধ: দুলাভাই বাহিনীর প্রধান আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাথে দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র রাতভর তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অভিযান শেষে বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে (৫০) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে কোস্ট গার্ড।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধ ঘটে।

কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের গহীনে জেলেদের অপহরণ ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে বনদস্যুরা অবস্থান করছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়দাফেসা খাল এলাকায় বিশেষ অভিযানে নামেন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা আকস্মিক গুলি বর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডের জোয়ানেরাও পাল্টা গুলি চালান। রাতভর চলা এই বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে দস্যু দলের বাকি সদস্যরা বনের গভীরে পালিয়ে গেলেও বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়েন।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে কোস্ট গার্ডের একটি দল গুরুতর আহত দস্যু প্রধান রবিউলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, আহত রবিউলের হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলির ক্ষত রয়েছে। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কোস্ট গার্ড সদস্যরা তাকে পুনরায় নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান।

গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলাম কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের মানিক গাজীর ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় সুন্দরবনের ত্রাস ও কুখ্যাত দস্যু ছিল ‘ইলিয়াস বাহিনী’। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ইলিয়াস মারা যাওয়ার পর, ২০২৪ সালের দিকে তার বোনের স্বামী (দুলাভাই) রবিউল ইসলাম সুন্দরবনের জেলেদের ওপর অত্যাচার ও দস্যুতা চালাতে নতুন করে এই সশস্ত্র দল গঠন করেন। ইলিয়াসের বোনের জামাই হওয়ায় স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা এই দলের নাম দেন ‘দুলাভাই বাহিনী’।

এ বিষয়ে কয়রা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, “সুন্দরবনের ভেতরে কোস্ট গার্ড ও দস্যুদের মধ্যে গোলাগুলির খবর আমরা পেয়েছি। তবে পুরো বিষয়টি যেহেতু কোস্ট গার্ডের এখতিয়ারে এবং তারাই অভিযান পরিচালনা করেছে, তাই বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছেই রয়েছে।”

সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শরিফুল ইসলামও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বনবিভাগের কয়রা ফাঁড়ির কাছাকাছি এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের কুখ্যাত এই ডাকাত দলের বিরুদ্ধে এখনো বনের ভেতরে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান পুরোপুরি শেষ হলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন