ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশে আলটিমেটাম: বিপাকে আমির হামজা

ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশে আলটিমেটাম: বিপাকে আমির হামজা

নিজস্ব প্রতিবেদক: একের পর এক বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও নানা মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডে সমালোচনার মুখে থাকা এই বক্তা এবার নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন। 

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধের বিনিময়ে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় তাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে একটি মানহানি মামলা দায়ের হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এই আইনি নোটিশ তাকে বেশ বড় ধরনের বিপাকে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদের মাধ্যমে মো. হৃদয় হাসান নামের এক ব্যক্তি এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশ অথবা তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এক জনসভায় মুফতি আমির হামজা দাবি করেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য তাকে তিন দিনের মধ্যে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানালেও প্রস্তাবদাতাদের পরিচয় গোপন রাখায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয়রা বলছেন, একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্য হিসেবে অপরাধীদের নাম গোপন রাখা অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল। ইতিপূর্বে বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে মানহানি মামলার মুখোমুখি হওয়া আমির হামজার জন্য এই নোটিশ নতুন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

নোটিশের জবাব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না দিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে সংসদ সদস্যের গুরুদায়িত্ব, অন্যদিকে একের পর এক আইনি ও সামাজিক বিতর্ক—সব মিলিয়ে মুফতি আমির হামজা বর্তমানে বেশ চাপে রয়েছেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন