ক্রেতা সেজে ৮ বছরের পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ণ
ক্রেতা সেজে ৮ বছরের পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর বাগমারায় দীর্ঘ আট বছর ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে ছদ্মবেশে কৌশল অবলম্বন করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি ছিল তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন; তবে ঢাকায় অনলাইন ব্যবসার ফাঁদ পেতে ক্রেতা সেজে তাঁর অবস্থান নিশ্চিতের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি হলেন বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সূর্যপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে হাসিবুল ইসলাম (৪০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোরে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত চারটি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তাঁর সাজা হয়। ২০১৯ সাল থেকে তিনি টানা পলাতক ছিলেন। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গেলে স্বজনেরা দাবি করতেন হাসিবুল বিদেশে অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের মাধ্যমে বাগমারা থানা-পুলিশ জানতে পারে, হাসিবুল ঢাকায় অবস্থান করে 'রংধনু শপ' নামে একটি অনলাইন কসমেটিকস ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এরপর পুলিশের একটি দল ক্রেতা সেজে তাঁর সাথে পন্য কেনার ছলে যোগাযোগ স্থাপন করে। শুক্রবার রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিচয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দীন জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে আসামি ছদ্মবেশে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় তাঁর অবস্থান শনাক্তের পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

হাসিবুলের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁরা জানতেন হাসিবুল মালয়েশিয়ায় আছেন এবং নিয়মিত বাড়িতে টাকাও পাঠাতেন। ঢাকায় থেকে ব্যবসা করার বিষয়টি পরিবারের জানা ছিল না। পুলিশের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসাও করেন তিনি।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, কৌশলী অনুসন্ধানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আকতার বলেন, "প্রায় আট বছর ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিবুলকে অনেক প্রচেষ্টার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অন্যান্য থানার মামলার আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালত তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেবেন।"

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন