ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওর সংলগ্ন জালালপুর ও পেটুর বন এলাকায় সেচ সংকটে হাহাকার শুরু হয়েছে। একসময় যে খাল দিয়ে ফসলি জমিতে পানির প্রবাহ ছিল, আজ সেখানে কেবলই পানিশূন্যতা। পেটুর খাল অবৈধ দখল ও ভরাটের কবলে পড়ায় মনু প্রকল্পের পানি পৌঁছাতে পারছে না হাওরের ফসলি জমিতে। ফলে বোরো চাষ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালালপুর পেটুর খালটি দিয়ে একসময় পেটুগাঁও, শত্রুমর্দন ও জালালপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হতো। বর্তমানে খালটির অস্তিত্ব সংকটে পড়ায় শতাধিক বিঘা জমিতে বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ফসল ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
জালালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের গ্রামের খালটি দীর্ঘ বছর খনন করা হয় না। অনেক জায়গায় মানুষ বাড়ি-ঘর তুলে দখল করে নিয়েছে। পানির অভাবে আমরা চাষাবাদ করতে পারছি না।" একই গ্রামের মকসদ মিয়া জানান, খালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শতাধিক বিঘা জমি অনাবাদি থাকার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে কৃষক আব্দুল লতিফের অভিযোগ, খাল দখলের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নালা থেকে পানি মূল মাঠে পৌঁছাতে পারছে না।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে আশার বাণী শোনানো হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখছেন না কৃষকরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, "পেটুর খালসহ ভরাট ও দখল হওয়া খালগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। খালটি পুনরায় খনন ও দখলমুক্ত করতে ঊর্ধ্বতন মহলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।"
কাউয়াদীঘি হাওর পাড়ের কৃষকদের দাবি, কেবল কাগুজে প্রস্তাব নয়, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে পেটুর খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হোক। অন্যথায় এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ