ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশেষ প্রতিনিধি: সেতুর দুই পাশের রেলিং নেই, ঢালাই উঠে রড বেরিয়ে গেছে—এমন এক অরক্ষিত সেতু দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে শত শত শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার্থী। যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর ও তাহেরপুর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলে হরিহর নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক আতঙ্কের নাম। অথচ সংস্কারের বিষয়ে পৌরসভা ও এলজিইডি (LGED) একে অপরকে দোষারোপ করায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ভুক্তভোগীদের।
বিপজ্জনক বর্তমান অবস্থা: সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে নির্মিত এই সেতুটির চারপাশের রেলিং সম্পূর্ণ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পায়ে হাঁটার পাশাপাশি বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ইজিবাইকের মতো যানবাহন এই সরু ও অরক্ষিত পথ দিয়ে চলাচল করছে। সেতু সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী কয়েকটি ছিন্নমূল পরিবারের ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সামান্য অসাবধান হলেই সরাসরি হরিহর নদীতে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
যেভাবে বিকল হলো সেতু: স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালে মণিরামপুর রাজগঞ্জ মোড়ের প্রধান ব্রিজ নির্মাণের সময় বিকল্প পথ (বাইপাস) হিসেবে এই সেতুটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের চাপে তখনই সেতুর রেলিং ও বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য: সেতুটির সংস্কার বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল আহমেদের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান বলেন, "এটি এখন পৌরসভার এলাকা, কাজ করার দায়িত্ব তাদের।" অন্যদিকে মণিরামপুর পৌরসভার সচিব মো. তৌফিকুল ইসলাম দাবি করেন, "এটি এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত সেতু, মেরামতের দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।" দুই দপ্তরের এই রশি টানাটানির কারণে মাঝপথে ঝুলে আছে জননিরাপত্তার বিষয়টি।
আশ্বাসের বাণী: এই জনদুর্ভোগ ও ঝুঁকির বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন দ্রুত এই ‘মৃত্যুফাঁদ’ সেতুটির রেলিং নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ