ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তিমির বণিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’—এই স্লোগান সামনে রেখে সাংবিধানিক গণভোটের প্রচার শুরু হলেও মৌলভীবাজারের চা বাগান ও গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ এ নিয়ে অন্ধকারে রয়েছেন। প্রচার কার্যক্রম জেলা শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় জেলার ৯২টি চা বাগানের কয়েক লাখ শ্রমিক ও প্রান্তিক ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো জানেন না গণভোট আসলে কী এবং কেন তাদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি চা বাগান ঘুরে দেখা গেছে, ভোটাররা আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন নিয়ে অবগত থাকলেও একই দিনে যে আরেকটি আলাদা ব্যালটে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই। চা শ্রমিক কৃষ্ণা রবিদাস বলেন, "আমরা আগে কখনো গণভোট দেইনি। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যে আলাদা ভোট হবে, সেটাও জানি না। কেউ আমাদের কিছু বুঝিয়ে বলেনি।"
উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনের দিনই জাতীয়ভাবে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামত চাওয়া হবে: ১. সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য। ২. নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। ৩. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ। ৪. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান বাস্তবায়ন।
সরকারিভাবে ডিজিটাল বিলবোর্ড ও প্রচার যানের মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও মৌলভীবাজারে তা কেবল শহরের প্রধান সড়কগুলোতে সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, “চা বাগানের শ্রমিকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভোটার। অথচ তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। প্রচার না চালালে ভোটারদের অংশগ্রহণ অর্থবহ হবে না।”
মৌলভীবাজারের তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন প্রচারণার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে জানান, এই প্রচারণা মূলত জেলা শহরকেন্দ্রিক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, উপজেলা পর্যায়ে যাওয়ার নির্দেশনা এখনো নেই।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেলও একই কথা জানিয়ে বলেন, “প্রচারণার ক্ষেত্রটি সরকার থেকে নির্ধারিত। উপজেলা পর্যায়ে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই।”
স্বাধীনতার পর দেশে এ পর্যন্ত তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার চতুর্থবারের মতো সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে এই আয়োজন হতে যাচ্ছে। তবে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রচারণার এই ঘাটতি ভোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ