চুয়াডাঙ্গায় সমীকরণ পাল্টে দিচ্ছে জামায়াত, হারানো আসন চায় বিএনপি

চুয়াডাঙ্গায় সমীকরণ পাল্টে দিচ্ছে জামায়াত, হারানো আসন চায় বিএনপি

নাজিয়াত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই গ্রাম-মহল্লা আর হাট-বাজারে প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত চারপাশ। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ মাঠ থেকে হারিয়ে গেলেও লড়াই জমে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনেই এই দুই শক্তির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি তাদের হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া, অন্যদিকে জামায়াত চায় জয়ী হয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে আলমডাঙ্গা ও সদর উপজেলার একাংশ নিয়ে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখের বেশি। এই আসনটি একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা ৩ বার বিএনপি এই আসন দখলে রাখে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তরুণ নেতা শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি আলমডাঙ্গায় একটি বড় হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। সাবেক এই ছাত্রনেতা তারুণ্যের ওপর ভর করে ভোটের সমীকরণ পাল্টে দিতে কাজ করছেন। তিনি নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে রোল মডেল জেলা হিসেবে গড়ার পাশাপাশি মা ও শিশু হাসপাতাল এবং কৃষকদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করেছেন।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদরের একাংশ নিয়ে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। এই আসনেও লড়াই হচ্ছে সমানে সমান। বিএনপির প্রার্থী বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই নেতা এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। তার বিপরীতে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলা আমির রুহুল আমিন। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে হামলা-মামলা উপেক্ষা করে এলাকায় অবস্থান করা এই নেতার সাংগঠনিক অবস্থান বেশ শক্ত। রুহুল আমিন নির্বাচিত হলে এলাকায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্থলবন্দর বাস্তবায়ন এবং দর্শনাকে উপজেলায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও দুই আসনে সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালালেও মূল লড়াইটি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভোটাররা দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত। শেষ পর্যন্ত হারানো আসন বিএনপি ফিরে পায় নাকি জামায়াত নতুন ইতিহাস গড়ে, তা দেখার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

মন্তব্য করুন