ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর: যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. রাফসান জানির (৩১) বিরুদ্ধে নিজের ১৭ বছর বয়সী শ্যালিকাকে দীর্ঘকাল বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং বর্তমানে জিম্মি করে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া তালবাড়িয়া এলাকার এম. এ রাজ্জাকের ছেলে।
ভুক্তভোগী সামিয়া আফরোজ (১৭) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার রমণীগঞ্জ এলাকার সাজেদুর রহমানের মেয়ে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে পড়াশোনা করানো ও নিজের সন্তানদের দেখাশোনার কথা বলে দুলাভাই ডা. রাফসান সামিয়াকে যশোরে নিয়ে আসেন। সেখানে থাকাকালীন সামিয়াকে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে সামিয়ার বোন ও ভাগনে-ভাগনিদের ওষুধের মাধ্যমে ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে দিনের পর দিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
সামিয়া জানান, বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে রাফসান তাঁকে মণিরামপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ‘স্ত্রী’ পরিচয়ে রাখতে শুরু করেন। সবশেষে মণিরামপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে একটি বাসায় তাঁকে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। সামিয়ার বর্তমান বয়স ১৭ বছর ২ মাস হওয়ায় এটি সরাসরি বাল্যবিবাহ ও ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে। সম্প্রতি ডা. রাফসান সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে সামিয়াকে তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ঘটনা জানাজানি হলে ডা. রাফসান, তাঁর পিতা এবং সামিয়ার নিজের বোন মিলে কিশোরীকে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সামিয়া গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে ১০ লক্ষ টাকার প্রলোভন দেখানো হয়েছে এবং জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এমনকি যশোরের কিছু সংবাদকর্মী ডা. রাফসানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে উল্টো সামিয়াকেই ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএসও) ডা. ফয়েজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সত্যতা পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, ঘটনাস্থল মণিরামপুর হওয়ায় কিশোরীর অনলাইন জিডি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনজীবীদের মতে, ভুক্তভোগী নাবালিকা হওয়ায় এটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বর্তমানে সামিয়া জীবন সংশয়ে রয়েছেন এবং গুম হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ডা. রাফসানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ.এ.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ