হাড় কাঁপানো শীতের কবলে গোপালগঞ্জ: গতরাতে তাপমাত্রা ৯.৮ ডিগ্রি

হাড় কাঁপানো শীতের কবলে গোপালগঞ্জ: গতরাতে তাপমাত্রা ৯.৮ ডিগ্রি

গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হেলাল মুন্সী: দেশজুড়ে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব বাড়তে থাকায় গোপালগঞ্জে আবারও হাড় কাঁপানো তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। গতরাতে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীত মৌসুমে জেলার অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে জেলা আবহাওয়া অফিস এই তাপমাত্রা রেকর্ড করে। কনকনে শীত আর হিমেল বাতাসের কারণে জেলাজুড়ে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কুয়াশা ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসের কারণে রাতের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে গোপালগঞ্জে তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল, যা সে সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল। চলতি মৌসুমে একাধিকবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তালিকায় গোপালগঞ্জের নাম উঠে আসায় তীব্র শীত নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, পশ্চিমা লঘুচাপ ও শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে এ ধরনের তীব্র শীত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তীব্র এই শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও ভাসমান জনগোষ্ঠী। ভোরে ও গভীর রাতে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় সড়কে যানবাহন চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে অনেক এলাকায় খড়, কাঠ ও পুরোনো কাপড় জ্বালিয়ে সাধারণ মানুষকে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এছাড়া শীতের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষিখাতেও। ঘন কুয়াশার কারণে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি সবসময় গরম পোশাক ব্যবহার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন