ছাত্রলীগ নেতার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা, ডিসির দপ্তরে পৌঁছায়নি কোনো কাগজ

ছাত্রলীগ নেতার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা, ডিসির দপ্তরে পৌঁছায়নি কোনো কাগজ

ছাত্রলীগ নেতার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা, ডিসির দপ্তরে পৌঁছায়নি কোনো কাগজ

ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম কারাগারে বন্দি অবস্থায় স্ত্রী ও শিশু সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল—পরিবারের এমন দাবিকে ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান জানিয়েছেন, তার দপ্তরে এ সংক্রান্ত কোনো আবেদনই পৌঁছায়নি।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদন বা কাগজপত্র আমার কাছে আসেনি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।’

এর আগে বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের পরিবার ও স্বজনরা দাবি করেন, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর তাকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ তোলেন।

উল্লেখ্য, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও ৯ মাস বয়সী শিশু নাজিমের লাশ দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। মানবিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে কয়েক মিনিট সময় দেয়।

এর আগে শুক্রবার বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় তাদের শিশু সন্তানকে। পুলিশ ও পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী।

স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তবে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—আসলে প্যারোলের জন্য কোনো আবেদন করা হয়েছিল কি না, নাকি আবেদনটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ হোসেন জানান, তার কাছেও এ ধরনের কোনো নির্দেশনা ছিল না। লাশ নিয়ে সেখানে আসলে মানবিক কারণে জেল কোড অনুযায়ী নিহতদের লাশ দেখানো হয়েছে।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন