ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আবু রায়হান, রংপুর ব্যুরো: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলীর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে ছাত্র সংসদ (বেরোবিসু) নির্বাচন চালু করা। উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর সিন্ডিকেট সভায় ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দিলেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। বরং জাতীয় নির্বাচনের অজুহাত দেখিয়ে এই প্রক্রিয়াকে রহস্যজনকভাবে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সম্প্রতি প্রকাশিত ২৬টি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আড়ালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি সিনিয়র পদে অনৈতিক নিয়োগের নীল নকশা চলছে। অতীতে নানা অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং দুদকের মামলা ও ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা থাকা একটি বিশেষ চক্রকে পুনর্বাসনের জন্যই এই তোড়জোড় চলছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সুবিধা দিতে নিয়োগ নীতিমালায় বারবার শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগও তোলেন তারা।
ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত আর্থিক অস্বচ্ছতার বিষয় তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা বলেন, গুচ্ছসহ বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ব্যবহার করা হলেও তার আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হচ্ছে না। উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ একটি সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে এই অর্থ ভাগাভাগি করার গুরুতর অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা গত এক বছরের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। একই সাথে জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে পূর্ববর্তী প্রশাসনের দুর্নীতি, অবৈধ নিয়োগ ও যৌন হয়রানি সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনগুলো গোপন রাখায় উপাচার্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতি বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরে যে উন্নয়ন করেছি তা নজিরবিহীন। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে আমি নিজেও, তবে এর দেরি হওয়ার পেছনে আমি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নই। আর নিয়োগের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কারণ প্রক্রিয়াটি এখনো চূড়ান্তই হয়নি।”
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ