‘ফ্যামিলি কার্ড আসলে ফাজলামি কার্ড, আমাকে পরাস্ত করা যাবে না’
বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ আসলে ফাজলামি ছাড়া কিছুই নয়। এটি মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ভোট নেওয়ার নতুন কৌশল—এমন মন্তব্য করেছেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমান সরকার। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, কেউ তাঁকে ‘পরাস্ত করতে পারবে না’।
গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে সুন্দরগঞ্জের বেলকা এমসি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের আয়োজনে এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, আগে শোনা যেত ভোটের আগের রাতে টাকা দিয়ে ভোট কেনা হয়, এবার এক মাস আগেই আইডি কার্ড নিয়ে তথাকথিত ফ্যামিলি কার্ড করা হচ্ছে। এটি ফ্যামিলি কার্ড নয়, এটি ফাজলামি কার্ড।
তিনি আরও বলেন, জনগণকে প্রতারক বানানো এবং প্রতারিত করার উদ্দেশ্যেই এসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে। ভোট কেনার জন্য নাকি বিকাশে টাকা দেওয়া হচ্ছে, আবার কিছু লোককে গ্রুপ বের করে কাজ করানো হচ্ছে। ভোট কেনার এই নতুন পদ্ধতি আগেভাগেই শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাজেদুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়া তাঁদের মূল লক্ষ্য নয়। তাঁদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা, আর সে কারণেই রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশে তাঁদের যেসব এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুজন রাহবার ছিলেন মো. মতিউর রহমান নিজামী ও মো. আলী আহসান মুজাহিদ। তাঁরা তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিন পয়সারও দুর্নীতির প্রমাণ কেউ করতে পারেননি। অথচ তাঁদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের দোষ ছিল—তাঁরা কোনো দুর্নীতি করেননি।
তিনি বলেন, শুধু জামায়াতকে স্তব্ধ করার জন্য পাঁচজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং ছয়জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন হজরত আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, যিনি প্রায় ১৪ বছর কারাগারে ছিলেন। তাঁদের একটাই অপরাধ ছিল—তাঁরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কোরআনের দাওয়াত দিতেন।
মাজেদুর রহমান বলেন, যতই ষড়যন্ত্র হোক, এই সুন্দরগঞ্জে তাঁদের কেউ পরাস্ত করতে পারবে না, ইনশা আল্লাহ। তিনি বলেন, এই সুন্দরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী পাঁচজন নেতাকে হারিয়েছে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল আজিজকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। তাঁর লাশ দেশে আনা যায়নি, জানাজাও আদায় করা যায়নি। জুয়েল রানা, ফরিদুল ইসলাম, সোহানুর রহমান সোহানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং শাহাবুল ইসলামকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বেলকা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা একেএম নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির জেলা আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু ও সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের উপজেলা সভাপতি মুফতি মাহমুদ আল মামুন, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আমিন, উপজেলা যুব জামায়াতের নেতা ইব্রাহিম আলী সরকার এবং উপজেলা শিবির সভাপতি সোহান ইসলাম।
বেলকা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ওহেদুজ্জামান সরকারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ইউনিয়ন জামায়াতের তারবিয়াত সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল আজিজ, ওলামা বিভাগের বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা গোলাম আজম, যুব জামায়াতের সভাপতি শিহাব মো. সাহাবুদ্দীন প্রমুখ।
আই.এ/সকালবেলা