নিয়ামতপুরে দলিল লেখক সমিতির ‘রহস্যময়’ স্থান পরিবর্তন

নিয়ামতপুরে দলিল লেখক সমিতির ‘রহস্যময়’ স্থান পরিবর্তন

মো. শাহারিয়ার, বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে সম্প্রতি দলিল লেখক সমিতির কার্যালয় হঠাৎ রহস্যজনকভাবে স্থান পরিবর্তন করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির আলামত আড়াল করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যে দলিল লেখক সমিতির সম্পাদক দিজেন এবং অফিসের নৈশপ্রহরী বধু’র ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের কর্মস্থলের ‘ভিতরের খবর’কে কাজে লাগিয়ে এই চক্রটি দলিল নিবন্ধনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও প্রভাবশালী বলয় তৈরি করে রেখেছে। প্রশাসনের জবাবদিহি থেকে বাঁচতেই তারা তড়িঘড়ি করে সমিতির কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়ম মেনে দলিল সম্পাদন করতে গেলেও বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ফাইল আটকে রাখা বা মাসের পর মাস ঘুরানোর মতো হয়রানির শিকার হতে হয়। এখন কার্যালয় পরিবর্তনের ফলে এই অনিয়মের উৎসগুলো চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রশাসনের সঙ্গে কোনো প্রকার সমন্বয় বা স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ছাড়া সমিতির কার্যালয় বদল করা কার্যত প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। জায়গা বদলালেই অনিয়মের দায় মুছে যায় না, বরং সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তারা মনে করেন, নিয়ামতপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ও দলিল লেখক সমিতির কার্যক্রমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি একটি অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত এবং এর সঙ্গে অনিয়মের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন সচেতন মহল এবং তারা এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন