নতুন মন্ত্রী শরীফুল আলম: কিশোরগঞ্জের উন্নয়নে জনমানুষের আশা

নতুন মন্ত্রী শরীফুল আলম: কিশোরগঞ্জের উন্নয়নে জনমানুষের আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ: নবনিযুক্ত মন্ত্রী শরীফুল আলমকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ জেলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আশাবাদ ও উন্নয়নের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আপোষহীন অবস্থান এবং ত্যাগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁর অধিষ্ঠিত হওয়াকে কিশোরগঞ্জবাসী কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং গণমানুষের অধিকারের আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। ক্ষমতার এই নতুন অধ্যায়ে শরীফুল আলমের হাত ধরে অবহেলিত কিশোরগঞ্জে শিল্পায়ন, কৃষি ও অবকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা জেলার সর্বস্তরের মানুষের।

জেলার ব্যবসায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা ও সচেতন মহলের মতে, কিশোরগঞ্জে একটি আধুনিক রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। একটি ইপিজেড গড়ে উঠলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, যার ফলে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পায়নে পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলটি নতুন শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবি—বিতর্কিত ও অচল হয়ে থাকা কালিয়াচাপড়া চিনিকল পুনরায় চালু করা। স্থানীয়রা বলছেন, চিনিকলটি দখলমুক্ত করে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনে ফিরলে আখচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরে আসবে।

এক সময়ের গৌরবোজ্জ্বল পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনেও মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে জেলাবাসী। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাটকল ও বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নিলে বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং উদ্যোক্তারা নতুন বাজার পাবেন। এছাড়া কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের মৎস্য ও কৃষি ভাণ্ডারকে কাজে লাগাতে সেখানে অত্যাধুনিক হিমায়িত সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক রাইস মিল প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব অবকাঠামো গড়ে উঠলে মৌসুমি উৎপাদনের অপচয় কমবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরীফুল আলমের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তোষামুদি ও চাটুকারদের বলয় ভেঙে নীতি ও আদর্শের পথে অবিচল থাকা। জেলার সাধারণ মানুষ মনে করেন, তাঁদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে শিল্পায়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে পারলেই কিশোরগঞ্জের উন্নয়নের ইতিহাসে শরীফুল আলমের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমেই সার্থকতা পাবে তাঁর এই নতুন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন