রংপুর-৪ আসনে ৬০ বছর ধরে শৌচাগারের প্রতীক্ষায় গফুরটারীর বাসিন্দারা

রংপুর-৪ আসনে ৬০ বছর ধরে শৌচাগারের প্রতীক্ষায় গফুরটারীর বাসিন্দারা

হাবিবুর রহমান হাবিব, পীরগাছা (রংপুর): নামেই পৌরসভা, কিন্তু জীবনযাত্রা যেন আদিম যুগের বন্দিশালায়। রংপুরের হারাগাছ পৌরসভার গফুরটারী কলোনিতে গত ৬০ বছর ধরে চলে আসা এই অমানবিক পরিস্থিতি এখন রংপুর-৪ (পীরগাছা–কাউনিয়া) আসনের নির্বাচনী মাঠের প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ৩ হাজার মানুষের জন্য নেই কোনো ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার বা স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

কলোনির বাসিন্দারা জানান, এখানে পানযোগ্য পানি, গোসলখানা বা ড্রেনেজ ব্যবস্থার ছিটেফোঁটাও নেই। প্রতিদিন ভোরে শৌচাগারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারী-পুরুষ ও শিশুদের। স্থানীয় বাসিন্দা সামিনা বেগম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অনেক সময় কাপড়েই প্রস্রাব হয়ে যায়। আমরা কি মানুষ নই? আমাদের কি সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার নেই?” বিড়ি তৈরির ওপর নির্ভরশীল এই জনগোষ্ঠীর অনেকেরই অভিযোগ, দুর্গন্ধে এখানে অনেক বিয়ের প্রস্তাব পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়। এমনকি মৃতদেহ জানাজা দেওয়ার মতো ন্যূনতম জায়গা নেই এই কলোনিতে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি এক উঠান বৈঠকে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এই কলোনির দুর্দশা তুলে ধরে একে ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দেন। ভোটারদের ক্ষোভের মুখে প্রার্থীরা এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে বাসিন্দাদের আক্ষেপ—নির্বাচনের আগে সবাই আশ্বাস দিলেও জয়ের পর কেউ আর খোঁজ রাখে না।

 জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা পঙ্কজ কুমার সাহা জানিয়েছেন, এখানকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে যেকোনো সময় পানিবাহিত রোগ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। হারাগাছ পৌর প্রশাসক অংকন পাল বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। রংপুর জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, “স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। স্থানীয় সরকার বিভাগকে আধুনিক স্যানিটেশন ও রাস্তা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

বাসিন্দাদের দাবি, এবার কেবল মুখের আশ্বাস নয়, বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত এই অমানবিক পরিবেশ থেকে মুক্তি চান তারা।

মন্তব্য করুন