ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ ইমরান মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি: গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল)-এর উৎপাদন ফের বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গ্যাসের চাপ ১০ কেজির পরিবর্তে ৮ কেজির নিচে নেমে যাওয়ায় কারখানার ‘বুস্টার ট্রিপ’ করে উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে যায়।
কারখানার জিএম (অপারেশন) মো. ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য কমপক্ষে ১০ কেজি চাপের গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে তা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনছি শুধু কারখানার উৎপাদন সচল রাখার জন্য। কিন্তু রহস্যজনকভাবে চুক্তি অনুযায়ী চাপ দেওয়া হচ্ছে না, যা একটি রাষ্ট্রীয় শিল্পকে সরাসরি ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”
কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় দৈনিক ১,৭০০ মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন ১,০০০ টনে নেমে এসেছিল, যা আজ দুপুরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। যান্ত্রিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বারবার উৎপাদন বন্ধ ও চালু হওয়ায় কারখানার স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
জাতীয় সার সরবরাহ ব্যবস্থায় এই কারখানার গুরুত্ব অপরিসীম। উৎপাদন বন্ধ থাকায় দেশের কৃষি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জামালপুর জেলা বিএফএ-র সাবেক সভাপতি চান মিয়া চানু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “লাভজনক এই কারখানার উৎপাদন নিয়ে যদি গ্যাসচাপের নামে ‘ভানুমতির খেলা’ বন্ধ না করা হয়, তবে এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
বর্তমানে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া না গেলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানিয়েছে। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দেশের কৃষি ও অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ