নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সিটি করপোরেশনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিএনপি সরকার। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট ও খুলনা সিটি করপোরেশনের পূর্ববর্তী আমলাতান্ত্রিক প্রশাসকদের সরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের পরিচিতি ও রাজনৈতিক পটভূমি নিচে তুলে ধরা হলো:
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বর্তমান সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামকে ডিএসসিসির প্রশাসক করা হয়েছে। তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
ডিএনসিসির নতুন প্রশাসক হয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম খান। তিনি সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পরিবার বংশপরম্পরায় স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আলোচিত সাত খুনের মামলার এই আইনজীবী ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তিনি আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে এই নগরীর প্রশাসক করা হয়েছে। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন এবং বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। নির্বাচনে দলের সমন্বয়কের ভূমিকা পালনকারী এই নেতা খান মো. রেজা-উন-নবীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনার প্রশাসক করা হয়েছে। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এবং ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মোখতার আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
নির্বাচন ও প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়রদের সরিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিলেও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের নগরীর দায়িত্ব দেওয়া হলো।
এম.এম/সকালবেলা