ফ্যাসিবাদবিরোধী সবাই শাহবাগী শক্তির ভিকটিম: সাদিক কায়েম

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদবিরোধী সবাই শাহবাগী শক্তির ভিকটিম: সাদিক কায়েম

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বলেছেন, “জুলাই পরবর্তী নতুন সরকার আসার পরেও আমরা আজ পর্যন্ত শাহবাগের বিচার করতে পারিনি। প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিই এই শাহবাগী শক্তির ভিকটিম।”

মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ঢাবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, “বিভিন্ন সময়ে তারা আল্লাহ-রাসুল (সা.) নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও কট্টর মন্তব্য করেছে। শাহবাগের এই ফ্যাসিবাদী ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এবং পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র এক সাথে কাজ করেছিল। আর শাহবাগের এই ইসলামবিদ্বেষী শক্তিকে নির্মূল করার জন্যই এ দেশের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা শাপলা চত্বরে একত্রিত হয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকার তাদের দমনের জন্য পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি-কে নিষ্ঠুরভাবে কাজে লাগিয়েছিল।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ৫-৬ মে’র সেই বর্বরোচিত ঘটনার এতদিন পার হলেও আমরা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো পুরোপুরি আইডেন্টিফাই (শনাক্ত) করতে পারিনি।

ডাকসু ভিপি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আমাদের বারবার স্মরণ করা দরকার। তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কারণেই আজকে এই ফ্যাসিবাদী শক্তি থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি। তবে এই অপশক্তি আবারও নানা ছদ্মবেশে ফিরে আসতে চাচ্ছে। তাই আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ জন্য আমাদের প্রকৃত শত্রু ও মিত্র ভালোভাবে চিনতে হবে।”

আলোচনা সভা থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন ছাত্রশিবিরের এই শীর্ষ নেতা। দাবিগুলো হলো: ১. শাপলা গণহত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে একটি স্বাধীন ‘তদন্ত কমিশন’ গঠন করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং শেখ হাসিনাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ দোষী কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ২. রাষ্ট্রীয়ভাবে ৫ মে’র ‘শাপলা গণহত্যা’র আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ৩. শাপলা গণহত্যায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। ৪. এই গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘আইনি রোডম্যাপ’ ঘোষণা করতে হবে। ৫. দেশের মানবাধিকার সংগঠন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সাথে সমন্বয় করে শহীদদের প্রকৃত ও চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে।

ঢাবি শাখা ছাত্রশিবিরের এই আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। সভার সার্বিক সঞ্চালনা করেন দলটির ঢাবি শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কয়েক শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন