পোস্টাল ব্যালট ইস্যুতে ইসি ভবন ঘেরাও, রাত পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা ছাত্রদলের

পোস্টাল ব্যালট ইস্যুতে ইসি ভবন ঘেরাও, রাত পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা ছাত্রদলের

পোস্টাল ব্যালট ইস্যুতে ইসি ভবন ঘেরাও, রাত পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা ছাত্রদলের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও প্রশ্নবিদ্ধ বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদল। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের এই কর্মসূচি রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে ইসির পক্ষপাতদুষ্ট ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাসহ তিনটি দাবিকে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে হটকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এতে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পেশাদারিত্ব চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনটি যৌক্তিক দাবিকে কেন্দ্র করে আজকের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি। আমরা রাত পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

এদিকে রোববার সকাল ১০টা থেকে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ দিনের শুনানি শুরু হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমাদের প্রধান ইস্যু পোস্টাল ব্যালট। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ ইন্ধনেই এই ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একই কৌশলে ছাত্রদলকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ সময় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানান সংগঠনটির সভাপতি।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। পরে আপিলে চারজন বাদে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৪২ জন। বাতিল হওয়া ৭২৩ জনের মধ্যে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৪৫ জন আপিল করেন। ১০ থেকে ১৭ জানুয়ারি টানা আট দিনের আপিল শুনানিতে প্রায় ৪০০ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান।

রোববার সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে ৬১১ থেকে ৬৪৫ নম্বর এবং অপেক্ষমাণ আপিলগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ছাত্রদলের তিনটি দাবি হলো—
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার।
২. বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে নেওয়া হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে জারি করা বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন বাতিল।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচন কমিশন ভবনের আশপাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শেরে বাংলানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইসি ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নিয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।

মন্তব্য করুন