সাভারে ড্রামে উদ্ধার হওয়া প্রেসার কুকার বোমার সফল বিস্ফোরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ

প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ণ
সাভারে ড্রামে উদ্ধার হওয়া প্রেসার কুকার বোমার সফল বিস্ফোরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ
সাভারে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কর্তৃক উদ্ধারকৃত বোমাটি নিষ্ক্রিয়করণের এলাকা।

সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের পাশের এক নির্জন মাঠে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী প্রেসার কুকার বোমাটি নিরাপদে ও সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।

বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিশেষজ্ঞ দলের উপস্থিতিতে বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এসময় বিকট শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠলে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যেভাবে উদ্ধার হলো বোমাটি:

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মধ্যরাতে অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি নির্জন মাঠের মধ্যে নীল রঙের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম রেখে দ্রুত কেটে পড়ে।

পরদিন সকালে উৎসুক স্থানীয়রা ড্রামটির ভেতরে কাপড়চোপড়, একটি পবিত্র কোরআন শরিফ ও একটি প্রেসার কুকার দেখতে পেয়ে তা বের করে মাঠের মাঝখানে রাখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে ভবানীপুর ফাঁড়ি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি কর্ডন বা ঘিরে ফেলে এবং ঢাকা থেকে সিটিটিসি-র বিশেষ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়।

দুপুরে ঢাকা থেকে স্পেশাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকার মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সাড়ে তিনটার দিকে ড্রামে থাকা প্রেসার কুকার বোমাটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

অন্যান্য স্থানের সাম্প্রতিক চিত্র:

  • হেমায়েতপুরে পাইপ বোমা বিস্ফোরণ: এর আগে মঙ্গলবার রাতেই সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি পাইপ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। সেখান থেকে বোমা তৈরির কেমিক্যাল ও গান পাউডার জব্দ করে সিটিটিসি ইউনিট।

  • বরিশাল আদালতে পটকা বিস্ফোরণ: একইদিন সকালে বরিশাল জেলা ও দায়েরা জজ আদালতের প্রধান ফটকে একটি ছোট বিস্ফোরণ ঘটে, যা পুলিশ প্রাথমিক তথ্যে ‘পটকা’ বলে দাবি করেছে। স্থানটিতে পুলিশ, র‍্যাব ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিম নিরাপত্তার কড়াকড়ি আরোপ করে আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে।

সাভারের মাঠে কে বা কারা কী উদ্দেশে বোমাটি রেখে গিয়েছিল, তা শনাক্ত করতে গভীর তদন্ত পরিচালনা করছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

মন্তব্য করুন