ডেঙ্গু রোগী বেশি হলে অতিরিক্ত ডাক্তার দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু রোগী বেশি হলে অতিরিক্ত ডাক্তার দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:দেশজুড়ে ডেঙ্গু মৌসুমের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব ও এডিস মশার উপদ্রব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকার যেকোনো উপায়ে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “ডেঙ্গু রোগী বেশি হলে মানুষকে বাঁচাতে যেমনে পারি অতিরিক্ত ডাক্তার দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারদের এলাকাভিত্তিক ভাগ করে দেওয়া হবে, তবু আমাদের দেশের মানুষদের বাঁচাতে হবে।”

আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয় রাজনীতি, জনপ্রশাসন ও সরকারের নীতি’ এবং ‘স্বাস্থ্যসেবা, জননিরাপত্তা, মহামারি ও চিকিৎসা ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও ডেঙ্গু নির্দেশনার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আধুনিকায়নে জিয়াউর রহমানের অবদান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বিস্তর কথা বলেন। আলোচনা সভায় তিনি আধুনিক বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ভিত্তি রচনায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, অবদান ও দূরদর্শী দিকনির্দেশনার কথা স্মরণ করেন এবং সেই আদর্শ মেনে দেশের স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসকসহ সবাইকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গুর পিক সিজন বা প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে হঠাৎ করেই রোগীর চাপ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসাকাজে জরুরি ওষুধ, স্যালাইন বা যেকোনো লজিস্টিকস সামগ্রীর প্রয়োজন হতে পারে। আমি চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করতে চাই, চিকিৎসাকাজে যেকোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আপনারা তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানাবেন, সরকার সঙ্গে সঙ্গে তা লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে ব্যবস্থা করবে।”

সারা দেশের বিশাল চিকিৎসক সমাজের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, “আপনাদের অনেক বিরাট বড় সার্কেল সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে। ডেঙ্গু রোগীর শারীরিক অবস্থা সবসময় অত্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে, যেন রোগীর প্লেটলেট বা অন্য কোনো শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত আইসিইউ বা জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যদি কোনো হাসপাতালে সমস্যা হয়, রোগী ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়, আমাদের দ্রুত জানাবেন। আমরা যেমনে পারি ডাক্তার দেব। প্রয়োজনে ডাক্তারদের ডিউটি ও স্টেশন বাইটা (ভাগ করে) দিয়ে দিব। তবু সাধারণ মানুষের চিকিৎসার যেন কোনো ত্রুটি না হয়।”

কেবল চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা দয়া করে যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের ঘরবাড়ি, ছাদ, ফুলের টব ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন যাতে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হতে না পারে। প্রত্যেকেই মশার কামড় থেকে বাঁচতে সচেতন থাকবেন এবং সরকারের নির্ধারিত ডেঙ্গু চিকিৎসার জাতীয় গাইডলাইন বা প্রটোকল কঠোরভাবে মেইনটেইন করবেন।”

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন