দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনা তদন্ত করা হবে: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ণ
দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনা তদন্ত করা হবে: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসন থেকে পৃথক দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত তৎপরতা এবং পূর্বপ্রস্তুতির কারণেই কোনো ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। গত শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে দুর্ঘটনাকবলিত দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

পরিদর্শনকালে দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "যাত্রীবাহী বাসটি আসলে যে ফেরিতে ওঠার কথা ছিল, সেটিতে না উঠে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এসে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য একটি ফেরির ঢালায় সরাসরি আঘাত করে। এতে ফেরির ঢালাটি ভেঙে গিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে ঘাট ব্যবস্থাপনায় বা চালকের কোনো ধরনের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা ছিল কি-না, সেটি জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ ঘাট সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে কঠোরভাবে খতিয়ে দেখবে। তবে স্বাভাবিকভাবে আমাদের প্রাথমিক নজরে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ত্রুটি পড়েনি।"

প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "আজকের এই বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে শত শত মানুষের প্রাণ বেঁচে যাওয়ার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ তিনি নিজে সরাসরি দূরপাল্লার বাস থেকে যাত্রীদের আগে নামিয়ে দিয়ে খালি বাস ফেরিতে তোলার এবং নদী পার হয়ে আবার বাসে ওঠার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সাধারণত মানুষকে চলন্ত বাস থেকে নামানো খুব কষ্টকর ব্যাপার, কারণ বাসে অনেক বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ এবং ছোট শিশু থাকে। তারপরও আমরা শতভাগ যাত্রী নামানো নিশ্চিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আজকের এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে আমরা বাস থেকে শতভাগ যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে ওঠানোর যে নিয়ম চালু করেছি, তা দেশের ইতিহাসে আগে ছিল না এবং এর সুফল আজ পাওয়া গেছে।"

প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান আরও যোগ করেন, "দুর্ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সেটি নিয়ে আমরা বিস্তারিত কাজ শুরু করেছি। যে কারণে আমরা নিজেরা একটি এবং জেলা প্রশাসন আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাসের চালক ও হেলপার বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ হলে তাঁদের সাথে কথা বলে জানা যাবে যে গাড়ির কোনো যান্ত্রিক সমস্যা ছিল কি-না, চালকের ঘুমের বা অন্য কোনো সমস্যা ছিল কি-না কিংবা গাড়ির ফিটনেসের কোনো বড় ধরনের অভাব ছিল কি-না। এই সমস্ত বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে তদন্ত করে দেখা হবে।" ফেরিঘাট পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, রাজবাড়ী জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং নৌপুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন