শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়া ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়া ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত থেকে সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলতি বছরের মধ্যে দেশে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করাকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ সোমবার (২৯ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “সত্যিই যদি সাহস থাকে, তাহলে পালিয়ে না থেকে দেশে এসে জুলাই হত্যাযজ্ঞের আইনি বিচার ও আদালতের মুখোমুখি হোন।”

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও হত্যাযজ্ঞ-সংক্রান্ত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আইনগত দিক বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করছেন।

আইনি অগ্রগতির প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, জমা পড়া এই মামলাগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, আমির হোসেন আমু, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারসহ বিদায়ী প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রধান আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে, গতকাল রোববার (২৮ জুন) ভারতীয় একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিশেষ সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র ও ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে বিগত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি দিল্লির নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বহু মামলা চলমান রয়েছে।

মন্তব্য করুন