ডিভোর্সি প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে প্রবাসী প্রেমিক খুন

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ণ
ডিভোর্সি প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে প্রবাসী প্রেমিক খুন

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের একটি রিসোর্টে বেড়াতে গিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও বিয়ের জেদের জেরে প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো সুইজগিয়ার চাকুর আঘাতে মো. আবদুল্লাহ (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রেমিকা সুমা আক্তারও (২০)। নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সুমা আক্তারই আবদুল্লাহকে নৃশংসভাবে খুন করে আত্মরক্ষার্থে নিজের শরীর সামান্য ক্ষতবিক্ষত করেছেন।

গত শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যার দিকে গাজীপুর মহানগরীর রাজেন্দ্রপুর এলাকার ‘জঙ্গলের গল্প’ রিসোর্টের ভেতরে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

নিহত মো. আব্দুল্লাহ গাজীপুর সদর উপজেলার পানিশাইল এলাকার অটোচালক শাহীন আলমের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত সুমা আক্তার একই উপজেলার পিরুজালী গ্রামের মো. সামসুদ্দিনের মেয়ে। তাঁরা সম্পর্কে পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন।

নিহতের খালাতো ভাই মো. রেজাউল করিম জানান, সুমা আক্তারের পূর্বে একটি বিয়ে হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি সুপারশপে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে আবদুল্লাহ সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। তিন মাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে আসেন এবং আগামী ৫ দিন পরেই তাঁর পুনরায় সৌদি আরব ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। দেশে আসার পর ফুফাতো বোন সুমার সাথে আবদুল্লাহর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্পর্কের একপর্যায়ে আবদুল্লাহ জানতে পারেন যে কয়েক মাস আগে সুপারশপের এক সহকর্মীর সাথে সুমা পালিয়ে গিয়েছিলেন। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তবে সুমা বিষয়টি অস্বীকার করে সৌদি আরব যাওয়ার আগেই বিয়ে করার জন্য আবদুল্লাহকে অনবরত চাপ দিতে থাকেন। এতে আবদুল্লাহ রাজি না হওয়ায় প্রায় ২০-২৫ দিন আগে সুমা একটি ধারালো সুইজগিয়ার চাকু বের করে আবদুল্লাহকে হত্যার হুমকি দেন। আবদুল্লাহ বিষয়টি তাঁর বাবা-মাকেও জানিয়েছিলেন এবং এরপর থেকে তিনি সুমাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতেন।

রেজাউল করিম আরও জানান, গত শনিবার সকালে সুমা মোবাইল ফোনে কল করে আবদুল্লাহকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। এরপর সন্ধ্যায় তাঁরা আবদুল্লাহর মৃত্যুর খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের পাশে একটি রক্তাক্ত সুইজগিয়ার চাকু পড়ে থাকতে দেখা যায়। আবদুল্লাহর শরীরে একাধিক জখম ও গলায় গভীর কাটার চিহ্ন ছিল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, "পুলিশ আমাদের প্রথমে জানিয়েছিল যে আবদুল্লাহ সুমাকে আঘাত করার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সুমা নিজের কাছে রাখা চাকু দিয়ে আবদুল্লাহকে খুন করার পর ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় নিতে নিজের শরীরে মৃদু আঘাত করেছেন। কারণ সুমার চোট ততটা গুরুতর নয়।"

নিহতের বাবা শাহীন আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সুমা আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। কয়েক দিন আগেও সে আমার ছেলেকে এই চাকু দিয়ে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছিল। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।" এই ঘটনায় আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আব্দুল্লাহ ও সুমার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শনিবার তাঁরা রাজেন্দ্রপুর এলাকার ওই রিসোর্টে ঘুরতে যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য ও তর্কাতর্কির একপর্যায়ে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং আহত সুমা পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন