রাজধানীতে প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং বাসে বাসে রেষারেষির কারণে সৃষ্টি হওয়া দীর্ঘ যানজট নিরসনে আগামী ছয় মাসের মধ্যে 'বাস রুট রেশনালাইজেশন' (Bus Route Rationalization) বাস্তবায়নের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নতুন এই আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় ঢাকার প্রতিটি নির্দিষ্ট রুটে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি কোম্পানির অধীনেই শুধু বাস চালানো হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের সার্বিক গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা আনয়ন সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে রাজধানীর বাস স্টপেজগুলো সুনির্দিষ্টকরণ, চলাচলের অনুপযোগী ও লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলো দ্রুত মেরামত এবং বাসের চালকদের জন্য স্থায়ী মাসিক বেতন কাঠামো নির্ধারণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়সীমার ভেতরেই পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি রুটে বাস চলাচল শুরু করা হবে।
ইতিমধ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমগ্র ঢাকাকে ৩২টি নির্দিষ্ট রুটে বিভক্ত করেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই সকল রুটে শতভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সার্ভিস চালু করা হবে। নতুন পদ্ধতিতে প্রতিটি বাসে কাউন্টারভিত্তিক ডিজিটাল টিকিট (ই-টিকেটিং), আধুনিক জিপিএস ট্র্যাকিং ও যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলাচল করায় রাজধানীতে প্রতিনিয়ত চালকদের প্রতিযোগিতা ও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এই সংকট কাটাতে ২০০৪ সালের ‘কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা’ (এসটিপি)-এর ওপর ভিত্তি করে ২০১৫ সালে বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি চালুর প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে ট্রান্স-সিলভা ও বিআরটিসির যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষামূলক ই-টিকেটিং সেবা চালু হলেও অন্য বাসগুলো একীভূত না হওয়ায় এবং মালিকদের অসহযোগিতায় পরিষেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও পরিবহন মালিকদের অনাগ্রহের কারণে উদ্যোগটি মুখ থুবড়ে পড়েছিল।
বর্তমানে সরকার নতুন করে গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিআরটিএ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের আরটিসির সঙ্গে সমন্বয় করে খুব শীঘ্রই রুটভিত্তিক বাসের সংখ্যা, পরিচালনাকারী কোম্পানি, ডিপো ও লে-ওভার পার্কিং সুনির্দিষ্টভাবে চূড়ান্ত করা হবে।