৪১৮ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান
মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার কারণে এখনো উচ্চশিক্ষার পথ থেকে ঝরে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি।
আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক উৎসবমুখর পরিবেশে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০২৫ সালের এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ৪১৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এই বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, “আমি উপকূলীয় এলাকার সন্তান। ছোটবেলায় পাঁচটি খাল সাঁতরে আমাকে স্কুলে যেতে হয়েছে। তাই উপকূলের শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম, কষ্ট ও স্বপ্নের মূল্য আমি খুব ভালোভাবেই জানি। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু আর্থিক সংকট ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, মেধা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা ধারণ করতে হবে। মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু।
এ ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ কুমার দাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলী, খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আছিফ উদ্দিন রাখীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
বৃত্তি পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর পড়াশোনার খরচ নিয়ে পরিবার বেশ চিন্তায় ছিল। জেলা পরিষদের এই বৃত্তি আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”
আরেক শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “উপকূলীয় এলাকার অনেক শিক্ষার্থীর মতো আমিও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করেছি। এই সম্মাননা আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের জন্য ও সমাজের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে চাই।”
অনুষ্ঠান শেষে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মনোনীত ৪১৮ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে এককালীন শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন অতিথিরা।
এআইএল/সকালবেলা
|