রামমন্দিরের অর্থ চুরির দায়ে গ্রেফতার ৮

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ণ
রামমন্দিরের অর্থ চুরির দায়ে গ্রেফতার ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার নবনির্মিত ঐতিহাসিক রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আটজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

আজ শুক্রবার (২৬ জুন) অযোধ্যার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এই গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— লভকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, মনীশ যাদব, রামশংকর যাদব ওরফে তিন্নু, সুভাষ চন্দ্র শ্রীবাস্তব ও করুণেশ পান্ডে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতের নতুন দণ্ডবিধি ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’র অধীনে চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগীও রয়েছেন।

মামলার এজাহার (এফআইআর) অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মন্দিরে ভক্তদের দান করা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার কাজের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই আসামিরা মন্দির প্রাঙ্গণে বসানো বড় বড় দানবাক্স থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেদের পকেটে পুরেছেন এবং তহবিলের অপব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত সুভাষ চন্দ্র শ্রীবাস্তব টাকা গণনার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, রাম শঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের সাবেক গাড়িচালক ছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই, ট্রাস্টের সদস্য ড. অনিল মিশ্র কিংবা মন্দির ব্যবস্থাপনা ইনচার্জ Gopal রাওয়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করতে কেবল মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বলির পাঁঠা বানাচ্ছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

তবে এসব সমালোচনা নাকচ করে দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দেওরিয়ায় এক জনসভায় তিনি বলেন, “সরকার বিশেষ তদন্ত কমিটির (এসআইটি) রিপোর্টের ভিত্তিতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে কাজ করছে। অযোধ্যা আমাদের সবার আস্থার প্রতীক। যারা আজ এই ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। এরা তারাই, যারা একসময় শ্রী রামের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করেছিল এবং অযোধ্যাকে অবজ্ঞা করেছিল।”

রাম মন্দিরে দানের টাকা গায়েবের এই বিতর্কটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ৭ জুন, যখন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন। পরবর্তীতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও আম আদমি পার্টিও (আপ) আইনি ব্যবস্থার দাবি জানালে এটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জুন লক্ষ্ণৌ বিভাগের কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্তের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি (এসআইটি) গঠন করে উত্তর প্রদেশ সরকার। গত ২৩ জুন এসআইটি সরকারের কাছে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের উদ্যোগে গত ২৫ জুন রাতে অযোধ্যা থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং পরদিনই পুলিশ আট আসামিকে গ্রেফতার করে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্তৃক উদ্বোধনের পর থেকেই রামমন্দিরে বিপুল পরিমাণ অনুদান আসছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভক্ত এই মন্দিরে আসেন। মন্দিরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মন্দিরটির মোট আয় ছিল প্রায় ৩২৭ কোটি রুপি। যার মধ্যে সরাসরি অনুদান ১৫৩ কোটি রুপি এবং ব্যাংক সুদ বাবদ আয় ১৭৩ কোটি রুপি।

মন্দিরের এই বিশাল অর্থ গণনার জন্য স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াকে (এসবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যারা আবার একটি বেসরকারি সিকিউরিটি এজেন্সির মাধ্যমে প্রতিদিন ১৪ জনের দল দিয়ে টাকা গণনা করাত। মন্দিরের ক্যাম্প অফিস ইনচার্জ প্রকাশ গুপ্ত জানিয়েছেন, রসিদের মাধ্যমে সরাসরি কাউন্টারে জমা হওয়া টাকার হিসাব ঠিক থাকলেও, মূলত দানবাক্সের টাকা গণনার সময়ই এই বিশাল চুরির ঘটনাটি ঘটেছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন