বেনাপোলে নথিপত্রহীন ভারতীয় ট্রাক জব্দ

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ণ
বেনাপোলে নথিপত্রহীন ভারতীয় ট্রাক জব্দ

বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দরে কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়া প্রবেশ করা এবং পণ্য গায়েবের অভিযোগে সরিষার খৈল বোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে বন্দরের ৩১ নম্বর শেড ইয়ার্ড এলাকা থেকে ট্রাকটি আটক করা হয়।

কাস্টমস ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ঝিকরগাছার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে আমদানি করা সরিষার খৈল নিয়ে ভারতীয় ট্রাকটি (ডব্লিউবি ২৫-ই ৮৯৫৫) গত ২৩ জুন রাতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। নথিপত্র অনুযায়ী, ২৫ জুন ট্রাকটির ৩৫ নম্বর শেডে গিয়ে পণ্য খালাস করার কথা ছিল।

অভিযোগ উঠেছে, ট্রাকে থাকা মূল আমদানিকৃত পণ্যের একটি বড় অংশ ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে ঢোকার আগেই কৌশলে অবৈধভাবে নামিয়ে বা সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর বিকেল ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি বা গেটপাস ছাড়াই ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) এলাকায় ঢুকে পড়ে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বন্দর নিরাপত্তা কর্মীরা ট্রাকটি আটকে কাস্টমসকে খবর দেন।

পরে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটিতে যৌথ তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল এবং ৫০টি খালি চটের বস্তা জব্দ করা হয়। ওজন মেপে দেখা যায়, ট্রাকে খৈলের নিট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি।

কাস্টমসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, “আমদানি ঘোষণাপত্র (ম্যানিফেস্ট) অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি খৈল থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। অর্থাৎ ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি রয়েছে, যা বন্দর এলাকার ভেতরেই কোথাও পাচার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পণ্য গায়েব ও শুল্ক ফাঁকির এই চক্রটি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে ‘মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল’-এর নাম ব্যবহার করেছিল। তবে এই অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে লিখিত চিঠি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটি।

মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি তাঁর লিখিত আবেদনে দাবি করেন, “আমাদের লাইসেন্সের নাম ব্যবহার করে অজ্ঞাত কোনো চক্র এই অবৈধ কাজ করেছে। এই ট্রাক বা পণ্য চালানের সাথে আমাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধির বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা ছিল না। প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানকে যেন অযথা হয়রানি না করা হয়।”

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, “মিথ্যা ঘোষণা ও নথিপত্র ছাড়া ট্রাকটির মুভমেন্ট সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমরা দ্রুত সিনিয়র কর্মকর্তাদের জানাই। পরে কাস্টমসের উপস্থিতিতে মালামালসহ গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।”

এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনার নেপথ্যে বন্দরের কোনো চোরাচালান বা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া চক্র জড়িত রয়েছে কি-না, তা নিশ্চিত করতে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একযোগে তদন্ত শুরু করেছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন