সীমান্ত নিরাপত্তায় সহযোগিতা নিয়ে মমতাকে কড়া আক্রমণ অমিত শাহের

প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ণ
সীমান্ত নিরাপত্তায় সহযোগিতা নিয়ে মমতাকে কড়া আক্রমণ অমিত শাহের
শিলিগুড়ির রাণিডাঙায় এসএসবি-র সীমান্ত সদর দপ্তরের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও অন্যান্য অতিথিরা।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির রাণিডাঙায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) সীমান্ত সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন।

শিলিগুড়ি করিডর ও জমি জটিলতা:

অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষাকারী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল 'শিলিগুড়ি করিডর' (চিকেনস নেক)-এর নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

তিনি জানান, এই অঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করতে প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অভিযোগ তুলে শাহ বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই জমি হস্তান্তরে টালবাহানা করেছে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেয়নি। তবে সম্প্রতি রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানোর আগেই রাজ্য সরকারের কাছ থেকে জমি অনুমোদনের সম্মতি চলে আসছে।"

শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা ও উপস্থিতি:

সীমান্ত নিরাপত্তার কাজে দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন ও সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, "অতীতের মমতা সরকারের আমলে সরকারি বা নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি তা এড়িয়ে যেতেন। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি করছেন।"

'বন্দে মাতরম' ও জাতীয়তাবাদী চেতনা:

বক্তব্যে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদ ও ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন অমিত শাহ। জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'-এর পূর্ণাঙ্গ রূপ পরিবেশন নিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ বা জাতীয় মঞ্চে গানটি সম্পূর্ণ গাওয়া হতো না, যা দেশপ্রেমিকদের জন্য আক্ষেপের কারণ ছিল।

তিনি দাবি করেন, দেশজুড়ে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে প্রথমবারের মতো ‘বন্দে মাতরম’ গানটির পূর্ণাঙ্গ রূপ পরিবেশিত হয়েছে, যা ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ও অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে।

মন্তব্য করুন