ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাত প্রতিদিনই নাটকীয় মোড় নিচ্ছে। ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিসহ দেশটির ১০ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (Rewards for Justice) কর্মসূচির আওতায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই পুরস্কারের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তারা, যারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নের জন্য দায়ী। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের তথ্য দিলে তথ্যদানকারী আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি পুনর্বাসনের সুযোগও পেতে পারেন।
তালিকায় প্রধান নাম হিসেবে রয়েছেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ৮ মার্চ মোজতবা খামেনি ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হামলার সময় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
পুরস্কারের তালিকায় আরও রয়েছেন:
আলী আসগর হেজাজি (মোজতবা খামেনির ডেপুটি চিফ অব স্টাফ)
আলী লারিজানি (ইরানের নিরাপত্তা প্রধান ও সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা)
ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি (জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা)
এসকান্দার মোমেনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
ইসমাইল খাতিব (গোয়েন্দামন্ত্রী)
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে মাটির নিচে ‘লুকিয়ে’ আছে, তবে এর বিপরীতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আলী লারিজানি শুক্রবার তেহরানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে একটি সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আইআরজিসি বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করে এবং ২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ওপর গুপ্তহত্যার চক্রান্ত করছে। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে। তাদের মতে, মার্কিন এই অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশলমাত্র।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ