বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের নীতি মার্কিন আদালতে বাতিল

প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের নীতি মার্কিন আদালতে বাতিল
অভিবাসন ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার বিতর্কিত নীতি বেআইনি ঘোষণা করে তা বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ম্যানহাটনের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি সম্পূর্ণভাবে আইনবহির্ভূত এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমাকে সুস্পষ্টভাবে অতিক্রম করেছে।

বিচারক ভার্গাস তাঁর আদেশে বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে একতরফাভাবে অভিবাসন ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত মার্কিন অভিবাসন আইনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। মার্কিন অভিবাসন আইনে স্পষ্টভাবে দূতাবাস কর্মকর্তাদের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও এখতিয়ার সীমিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা দুটি সংগঠন, ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ভিসা আবেদনকারী এবং নির্ধারিত দেশগুলোর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার অপেক্ষায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের দায়ের করা যৌথ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেন আদালত।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করেছিল। এই তালিকার আওতায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ছাড়াও ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের মতো লাতিন আমেরিকার দেশ, বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সে সময় যুক্তি দেখিয়েছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কঠোরভাবে সীমিত করতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়ে আসছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এসব পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ বলে দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এর তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন। অধিকারকর্মীদের মতে, এমন ঢালাও সিদ্ধান্ত ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য ও হয়রানি বাড়িয়ে তোলে।

আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

মন্তব্য করুন