দর্শকদের ভালোবাসা পাচ্ছি এটাই বড় প্রাপ্তি: বিদ্যা সিনহা মিম
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ ও ‘ঢালিউড গ্ল্যামার ডায়েরি’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিদ্যা সিনহা মিমের সেই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
ঈদের সিনেমা দিয়ে দীর্ঘ দুই বছর পর বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন এবং দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মিম অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বলেন, “সত্যি বলতে, এই দুই বছরের দীর্ঘ বিরতি আমার নিজের কাছেও অনেক বড় একটা সময় বলে মনে হয়েছে। এই পুরোটা সময় জুড়ে আমার অগ্নিকুল ভক্তরা ও সাধারণ দর্শকেরা বারবার জানতে চেয়েছেন— মিমের নতুন সিনেমা কবে আসবে? আমিও সবসময় তাদের জন্য ভালো কিছু কাজ করতে চেয়েছি, কিন্তু নানা কারণে ব্যাটে-বলে হয়ে ওঠেনি। তাই এবার ঈদে ‘মালিক’ নিয়ে হলে ফিরতে পেরে আমার দারুণ লাগছে। মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভালোবাসা, উচ্ছ্বাস ও সীমাহীন আগ্রহ দেখে এখন মনে হচ্ছে আমার এই দীর্ঘ অপেক্ষাটা সত্যিই সার্থক হয়েছে।”
পর্দা থেকে এতদিন দূরে থাকার কারণ স্পষ্ট করে মিম বলেন, “এই দুই বছরে কাজের যে প্রস্তাব বা অফার আসেনি, তা কিন্তু নয়। অনেক বড় বড় প্রজেক্ট ও সিনেমার লোভনীয় প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু আমি সবসময় চেষ্টা করি চিত্রনাট্য, নিজের চরিত্র এবং পুরো প্রজেক্টের বাজেট ও মান বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে। যে ধরনের শক্ত বা ভিন্নধর্মী কাজ করতে চেয়েছি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রস্তাবিত সিনেমাগুলোতে সেই উপাদানগুলো মেলেনি। তাই সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছি। আমি মনে করি, শুধু পর্দায় নিজের মুখটা উপস্থিত রাখার জন্য গড়পড়তা কাজ করা উচিত নয়; শিল্পীদের এমন কিছু করা উচিত, যা সিনেমা হল থেকে বের হওয়ার পরও দর্শকের মনে দীর্ঘকাল দাগ কেটে থাকে।”
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘মায়া’ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মিম জানান, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্র ছিল। দর্শকেরা এখানে মিমকে মূলত দুটি সম্পূর্ণ আলাদা রূপে দেখতে পাবেন। গল্পের এক অংশে সে অত্যন্ত চঞ্চল, মায়াবী ও প্রাণবন্ত; অন্যদিকে পরিস্থিতির শিকারে পরিণত হওয়া তাঁর আরেকটি অন্ধকার ও ভিন্ন রূপ রয়েছে। চরিত্রের এই মনস্তাত্ত্বিক স্তরগুলো ফুটিয়ে তুলতে মিমকে বেশ কয়েক মাস কঠোর রিহার্সাল ও প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। বাস্তব জীবনের শান্ত মিমের সঙ্গে পর্দার এই জাঁদরেল মায়ার খুব একটা মিল নেই।
পর্দার এই মায়াকে রেটিংয়ের বিচারে দশে কত নম্বর দেবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিমুখে মিম বলেন, “মায়া চরিত্রটি যেহেতু আমার নিজের করা এবং চরিত্রটি ভালো লেগেছে বলেই তো আমি এতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। এই মায়া হয়ে উঠতে আমি আমার অভিনয়ের সেরাটাই ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই নিজের আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে আমি তো একে দশে দশই দেব! তবে আমার নাম্বার দেওয়ায় তো কিছু আসে যায় না; আসল স্বীকৃতি ও নাম্বার দিতে হবে সিনেমা হলের দর্শকদের। চরিত্রটি যদি দর্শকদের মনের মণিকোঠায় একটুও জায়গা করে নিতে পারে, তবে সেটাই হবে একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
সিনেমায় আরিফিন শুভর সঙ্গে মিমের অনবদ্য অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি বা রসায়ন নিয়ে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই প্রসঙ্গে মিম বলেন, “শুভ ভাইয়ের সঙ্গে এর আগেও আমি কাজ করেছি, তাই আমাদের মধ্যকার কাজের বোঝাপড়া ও কমফোর্ট জোনটা দারুণ। ‘তারকাঁটা’ এবং ‘সাপলুডু’ সিনেমার ব্যাপক সাফল্যের পর এবার ‘মালিক’ আমাদের জুটি হিসেবে তৃতীয় সিনেমা। দর্শক আমাদের জুটিকে রাজকীয়ভাবে গ্রহণ করেছেন বলেই হয়তো চারদিকে এত পজিটিভ আলোচনা হচ্ছে।”
ক্যারিয়ার চেঞ্জার সিনেমা ‘পরাণ’-এর সাফল্যের সাথে ‘মালিক’র কোনো তুলনা আসছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে মিম পরিপক্বতার সাথে উত্তর দেন, “দর্শক যখন কোনো সৃষ্টিকে মন থেকে ভালোবাসেন, তখন সেই কাজের ভালো লাগার রেশ ধরে পরবর্তী কাজের সঙ্গে তুলনা করাটা খুবই স্বাভাবিক। ‘পরাণ’ আমার অভিনয় জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি মাইলফলক সিনেমা। তবে ‘মালিক’ সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার, ভিন্ন বাজেটের ও ভিন্ন মেজাজের ছবি। তাই আমি চাই দর্শক এটিকে তার নিজস্ব মেরিট থেকেই মূল্যায়ন করুন।” বর্তমান বাংলা সিনেমার বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে মিম জানান, এখন দর্শক যেভাবে হলে গিয়ে মেগা প্রজেক্টের বাংলা সিনেমা দেখছেন এবং চাঙ্গা কনটেন্টকে সাপোর্ট দিচ্ছেন, তা ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক সুবর্ণ যুগের ইঙ্গিত দেয়। আগামীতেও তিনি সংখ্যার চেয়ে কাজের মানকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভিন্নধর্মী চরিত্রে প্রবাসীদের ও দেশের দর্শকদের মন জয় করতে চান।
জান্নাত সকালবেলা
|