হোসেনপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০ শিক্ষকের দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০ শিক্ষকের দুর্নীতির অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হক ভুঞার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পর প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের মোট ২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ২০ জন গত ৮ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে অনাস্থা জানান। আবেদনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, নাজমুল হক ভুঞা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যাংকে জমা না দিয়ে নগদে ব্যয়, রশিদ ছাড়া টাকা আদায়, ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়াসহ নানা অভিযোগ করা হয়েছে।

নথিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয় উঠে আসে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রধান শিক্ষকের সরকারি বেতন-ভাতার অংশ স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, বেতন-ভাতা স্থগিত হওয়ার পরও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমে অনিয়ম বন্ধ হয়নি। তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে টাকা আদায় করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ রসিদ দেওয়া হয়নি। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হক ভুঞা বলেন, তিনি নিয়মনীতি মেনেই বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। তাঁর দাবি, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের কিছু অর্থ কয়েকজন শিক্ষক আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট নথিতে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি উঠে এসেছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের অনাস্থার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্ত ও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন