জুড়ীতে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ণ
জুড়ীতে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কাঠের স্কেল দিয়ে পিটিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক এবং তাঁকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ১১ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা।

লিখিত অভিযোগে জুড়ীর কলাবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির উল্লেখ করেন, তাঁর মেয়ে নাইদা ইয়াসমিন সাগরনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২১ মে গণিত ক্লাস চলাকালে এক সহপাঠী নাইদার খাতা দেখে অঙ্ক করার চেষ্টা করছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জসিম ক্ষিপ্ত হয়ে নাইদাকে দায়ী করেন এবং কাঠের স্কেল দিয়ে তার হাতে ও বাহুতে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষকের নির্মম আঘাতের কারণে ছাত্রীর হাতে পরিহিত সৌদি আরব থেকে আনা একটি মূল্যবান অ্যাপল ওয়াচের গ্লাস ভেঙে যায়। এছাড়া প্রচণ্ড আঘাতের ফলে সে গুরুতর শারীরিক ব্যথায় ভোগে এবং মানসিকভাবে প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে তাকে কয়েকদিন ধরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা ও ব্যথানাশক ওষুধ দিতে হয়েছে বলে জানান অভিভাবক।

ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উহ্য ও গুরুত্বহীন বলে এড়িয়ে যান। আব্দুল কাদিরের দাবি, গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর বিদ্যালয় পুনরায় খোলার পরও প্রধান শিক্ষক বা অভিযুক্ত শিক্ষক কেউই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কিংবা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেননি।

লিখিত অভিযোগে অভিভাবক আরও দাবি করেন, প্রধান শিক্ষকের চরম অবহেলা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জসিম দাবি করেন, "বিষয়টি ওই রকম সিরিয়াস কিছু নয়। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার স্বার্থে অনেক সময় একটু শাসন করতে হয়। ইউএনও বরাবর অভিযোগের বিষয়টি জানার পর আমি আমার দুজন সহকর্মীকে নিয়ে শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং প্রয়োজনে তার ভাঙা ঘড়ির ক্ষতিপূরণসহ চিকিৎসা খরচ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছি।"

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসফিকীন নূর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে মারধরের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন