অনলাইন ডেস্ক: মানব সভ্যতার ইতিহাসে সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ হজরত ইবরাহিম (আ.) ও জালিম শাসক নমরুদের বিতর্ক। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ২৫৮ নম্বর আয়াতে এই ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা যুগ যুগ ধরে বিশ্বাসীদের জন্য এক মহান শিক্ষা হয়ে আছে।
ক্ষমতার অহংকার বনাম সত্যের শক্তি: নমরুদ ছিল সে সময়ের প্রতাপশালী রাজা। ক্ষমতার দম্ভ তাকে এতটাই অন্ধ করেছিল যে সে নিজেকে স্রষ্টার সমকক্ষ দাবি করতে শুরু করে। হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন তাকে সত্যের পথে ডাকেন, তখন সে বিতর্কে লিপ্ত হয়। ইবরাহিম (আ.) অত্যন্ত সংক্ষেপে মৌলিক যুক্তি পেশ করে বলেন, “আমার প্রতিপালক তিনিই, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান।”
নমরুদের যুক্তি ও প্রতারণা: অহংকারী নমরুদ এই অমোঘ সত্যকে অস্বীকার করতে গিয়ে দাবি করে, “আমিও জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই।” সে এক বন্দিকে হত্যা করে এবং অন্য একজনকে মুক্তি দিয়ে তার দাবির সপক্ষে এক হাস্যকর ও প্রতারণামূলক প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করে। অথচ জীবন সৃষ্টি বা প্রকৃত মৃত্যুর ওপর মানুষের কোনো হাত নেই।
অখণ্ডনীয় চ্যালেঞ্জ: নমরুদ যখন সরল যুক্তি গ্রহণ করতে অস্বীকার করল, তখন ইবরাহিম (আ.) এমন এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন যা অস্বীকার করার কোনো পথ ছিল না। তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন; তুমি সেটিকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করে দেখাও।” এই অখণ্ডনীয় যুক্তির সামনে নমরুদ হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে এবং নির্বাক হয়ে যায়।
শিক্ষণীয় দিক: এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সত্য সবসময়ই অজেয়। নমরুদের পতন ও ইবরাহিম (আ.)-এর বিজয় আমাদের শেখায় যে—অহংকার মানুষের বিবেককে অন্ধ করে দেয়, আর ধৈর্য ও প্রজ্ঞা দিয়ে সত্যের পথে অটল থাকলে বিজয় সুনিশ্চিত। ইবরাহিম (আ.)-এর এই বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই আজও আমাদের সঠিক পথে চলার প্রেরণা দেয়।
জান্নাত/সকালবেলা