ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী ঘর তৈরির অভিযোগ উঠেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বিরুদ্ধে। কুতুপালংস্থ ৪ নম্বর এক্সটেনশন ক্যাম্পের ই-ব্লকে পাহাড় কেটে রাস্তা ও ৮৮৮টি শেল্টার নির্মাণের এই ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, উক্ত ক্যাম্পে পাহাড় কেটে ইতিমধ্যে ১০ ফুট চওড়া রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বাঁশের পরিবর্তে ইট ও লোহা ব্যবহার করে স্থায়ী ঘর বা শেল্টার তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এসব ঘর নির্মাণের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ী করার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে।
পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, স্থায়ী ঘর নির্মাণ করে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চেষ্টা চলছে, যা প্রত্যাবাসনের জন্য বড় বাধা। পরিবেশ ধ্বংসের প্রতিবাদে তিনি কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। ব্যারিস্টার সাফ্ফাত ফারদিন চৌধুরী বলেন, গত এক বছরে আন্তর্জাতিক সংস্থা পাহাড় কেটে এসব নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা অন্যায় এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মান্নান: জানান, লোহা-ইট দিয়ে ঘর তৈরি করে তাদের স্থায়ী করার বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে। অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে স্থানীয়রা আন্দোলনে নামবে। বিএনপি নেতা সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঘরগুলো স্থায়ী হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে অনাগ্রহী হবে।
ইউএনএইচসিআর-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে এ বিষয়ে রবিবার বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, পাহাড় কাটার অভিযোগটি তারা খতিয়ে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, ঘরগুলো স্থায়ী নয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্যই এগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। তবে পাহাড় কাটার প্রমাণ পেলে তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ.আই.এল/সকালবেলা