হামে মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ণ
হামে মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে কেবল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালেই প্রাণ হারিয়েছে ৫৩ জন শিশু।

রাজশাহীতে আইসিইউর হাহাকার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। আইসিইউর অপেক্ষায় থেকে অনেক মা-বাবা তাঁদের সন্তানকে হারাচ্ছেন। শিরীন আক্তার নামের এক মা জানান, তাঁর ৯ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে বাঁচাতে আইসিইউর জন্য ৩২ নম্বর সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। মৃত্যুর দুদিন পর হাসপাতাল থেকে ফোন আসে সিট খালি হওয়ার, কিন্তু তখন আর করার কিছু ছিল না।

হাসপাতালটিতে মাত্র ১৮টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও রোগীর সংখ্যা এর কয়েক গুণ। পাশের জেলাগুলো থেকে আসা মুমূর্ষু শিশুদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এক শয্যায় ৩-৪ জন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, এমনকি মেঝেতেও ঠাঁই নিয়েছেন অনেক রোগী।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণ কমলেও মৃত্যুর হার বাড়তে পারে। আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন জানান, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংক্রমণ কমা শুরু হতে পারে, কিন্তু মৃত্যু কমতে আরও এক মাস সময় লাগবে। কারণ যারা ইতিমধ্যে সংক্রমিত হয়েছে, বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা দ্রুত গুরুতর অবস্থায় চলে যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ এই সংকটের জন্য অব্যবস্থাপনা ও আইসোলেশনের অভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, টিকা দেওয়ার পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে অন্তত ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় লাগে।

সরকারের বক্তব্য: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান জানান, সরকার বর্তমানে সংক্রমণ কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ শিশুকে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, আগামী ৮ থেকে ১৫ মে’র মধ্যে সংক্রমণের হার কমতে শুরু করবে এবং তখন হাসপাতাল ও আইসিইউর ওপর চাপ কমে আসবে।

হাম পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার ঘাটতি থাকায় বড় শহরগুলোতে রোগীর ভিড় বাড়ছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চরম সংকটে ফেলেছে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন