রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শুনানি ১৪ জুলাই

প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শুনানি ১৪ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অধিকতর অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। 

আজ বুধবার (১৭ জুন) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত এই দিন ধার্য করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, আজ শুনানির সময় কারাগারে থাকা ২৬ আসামিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়, যার মধ্যে ২১ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠন শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে আসামি সাবিনা আক্তার তুহিনসহ কয়েকজনের পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে অন্যান্য কয়েকজন আসামির আইনজীবীরা চার্জগঠন পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলমের নেতৃত্বে 'জয় বাংলা ব্রিগেড'-এর একটি জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ভার্চুয়াল সভায় শেখ হাসিনাসহ কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন এবং শেখ হাসিনা তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশনাসহ দেশবিরোধী বক্তব্য দেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন সিআইডির সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৪ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং ১১ সেপ্টেম্বর তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর পলাতক ২৬১ জনকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ গত ১১ নভেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। প্রথমে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ শুনানির পর্যায়ে থাকলেও গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে এটিকে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে বদলি করা হয়।

মন্তব্য করুন