ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: এক দশক আগে অকাল বন্যায় হাওরের ফসলহানির সেই দুঃসহ স্মৃতি আবারও ফিরছে সুনামগঞ্জে। চৈত্রের ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় সহস্রাধিক হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার পর এবার ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নিয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার প্রান্তিক চাষিরা। উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বাড়লেও ধানের দাম না বাড়ায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে তাঁদের।
ক্ষয়ক্ষতি ও উৎপাদন চিত্র: চলতি মৌসুমে ধর্মপাশায় ১৮ হাজার ২৯০ হেক্টর এবং মধ্যনগরে ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে, জলাবদ্ধতায় ইতিমধ্যে অন্তত ৬৫৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে, যার বড় অংশই টগার হাওরে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ৩৬.৫% জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কম। জলাবদ্ধতার কারণে হারভেস্টার মেশিন চালানো যাচ্ছে না এবং তীব্র শ্রমিক সংকটে ধান কাটায় গতি আসছে না।
সরকারি দাম ও কৃষকের অসন্তোষ: এ বছর সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা (মণপ্রতি ১,৪৪০ টাকা) এবং সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের সমান এই দর বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে তাঁদের জন্য লোকসান ছাড়া আর কিছুই নয়। ধর্মপাশার কৃষক গোলাম হুসাইন জানান, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে খরচ হয় ১৪-১৫ হাজার টাকা। অথচ সেই ধান বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬-১৭ হাজার টাকা। যারা জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন, তাঁদের বিঘা প্রতি ১-২ হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।
সিন্ডিকেট ও পরিবহণ সংকট: হাওর থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত ধান পরিবহণের সুব্যবস্থা না থাকায় অনেক কৃষক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে ফড়িয়া ও চাতাল মালিকদের কাছে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। ধার-দেনা ও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের চাপে ভেজা ধান কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, চাতাল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে ধানের দর নিম্নমুখী।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের উদ্বেগ: পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হতে পারছেন না। এছাড়া সরকারি সংগ্রহ অভিযানে দরিদ্র কৃষকদের চেয়ে মিল মালিক ও মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীরাই বেশি লাভবান হন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের মতে, কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেললে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ