ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: এক সময়ের ধু-ধু বালুচর এখন সবুজের সমারোহ। যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরের বালু খুঁড়লেই বেরিয়ে আসছে থোকা থোকা চীনা বাদাম। অধিক লাভ ও কম খরচের কারণে কৃষকদের কাছে এই বাদাম এখন ‘সাদা সোনা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলে এ বছর বাদামের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি।
মরুর বুকে ‘সাদা সোনা’: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪৬ বছর আগে যমুনার গ্রাসে ধুনট উপজেলার ১৪টি গ্রামের বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ২৫ বছর পর সেসব স্থানে নতুন চর জেগে ওঠে। এক দশক ধরে এসব অনাবাদি জমিতে শুরু হয়েছে চীনা বাদামের চাষ। বালুর পরিমাণ বেশি থাকায় অন্য ফসল ভালো না হলেও বাদাম চাষের জন্য এই মাটি এখন আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খরচ কম, লাভ বেশি: পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক আবু তালেব জানান, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে বাদামের বীজ বপন করা হয়। নামমাত্র সার ও সামান্য পরিচর্যাতেই প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ মণ ফলন পাওয়া যায়। যেখানে বিঘা প্রতি খরচ মাত্র দেড় হাজার টাকা, সেখানে প্রতি মণ কাঁচা বাদাম বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। শুকনো বাদামের দাম মণপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে।
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য: ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, এ বছর যমুনার চরাঞ্চলে বাদামের আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই কম হওয়ায় বাদামের দানা বেশ পরিপুষ্ট হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এক সময়ের নিঃস্ব হওয়া চরের মানুষগুলো এখন এই বাদাম চাষের হাত ধরেই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। উপযুক্ত বাজারজাতকরণ ও সরকারি সহযোগিতা পেলে এ অঞ্চলের বাদাম দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ